‘বড় ভাই’রা হল থেকে বের করে দেওয়ায় ভিসির বাসভবনে ঢাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান

60

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্যার এ এফ রহমান হলের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তৃতীয় বর্ষের ‘বড় ভাই’রা হল থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিবাদে ও হলে স্বাভাবিকভাবে থাকার জায়গার দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন।

বুধবার (১৫ মার্চ) দিনগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এই অবস্থান শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এক ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থানের পর রাত ২টা ৪০ মিনিটে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের আশ্বাসে সরে যান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, স্যার এ এফ রহমান হলের ১১১ নম্বর কক্ষে ৪৩ জন শিক্ষার্থী থাকেন। কক্ষটি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের নিয়ন্ত্রণাধীন। এখানে চার জনের জায়গায় সর্বোচ্চ আট জন থাকা সম্ভব। অথচ সেখানে থাকেন ৪৩ জন শিক্ষার্থী।

শুধু তাই নয়, ওই কক্ষে থাকার জন্য তাদের নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাওয়া, গেস্টরুমসহ নানা নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে হয়। এসব ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ও স্বাভাবিক আবাসন ব্যবস্থা করার দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বলেন, নিয়মিত ছাত্রলীগের প্রোগ্রাম করা সত্ত্বেও আমাদের আর একটা রুম দেওয়া হচ্ছে না। চার জনের এক রুমে ৪৩ জন থাকা একপ্রকার অসম্ভব। সমস্যার কথা জানালে তারা (ইমিডিয়েট সিনিয়র) বলেন, ‘তোরা পচে মর, আমাদের সমস্যা নাই’। পাঁচ মিনিটের আল্টিমেটামে আমাদের বের করে দিয়েছে। আমাদের জিনিসপত্র নেওয়ার সময় পর্যন্ত তারা দেননি।

jagonews24.com

শিক্ষার্থীরা বলেন, রুমের দাবি জানানোয় আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা আমাদের রুম থেকে বের করে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। আমাদের এখন যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমরা মাথা গোঁজার জন্য একটু ঠাঁই চাই। আমাদের অনেকের কাল পরীক্ষা আছে। কয়েকজন অসুস্থ ছিল, তাদের ধরে ধরে বের করে এখানে নিয়ে আসছি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা স্লোগান দেন- ‘দাবি মোদের একটাই—মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই’, ‘থাকার জন্য জায়গা চাই—দাবি মোদের একটাই’, ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি—মানতে হবে, মানতে হবে’।

রাত আড়াইটারদিকে ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে রুম দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে হলে ফেরত পাঠান।

এ সময় ওয়ালি আসিফ ইনান সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থানের বিষয় জানতে পেরে আমার বিবেকের টান থেকেই এখানে এসেছি। এফ রহমান হল যেহেতু আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম হল ছিল। আমি জানিও না তারা কারা কী হয়েছে। তবে আমি শুনেছি এফ রহমান হলের কিছু শিক্ষার্থীর আবাসন নিয়ে কোনো সমস্যা হয়েছে। এজন্য তারা উপাচার্যের বাসার সামনে এসে নিজেদের দুঃখ কষ্টগুলো প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি তাদের বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রনেতা হিসেবে ওদের সমস্যা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করতে চেষ্টা করি। আমার বিশ্বাস, আমি সমাধান করতে পেরেছি। আমি ওদের বুঝিয়ে এই রাতে যাতে রাস্তায় কষ্ট করতে না হয় সেজন্য হলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ওরা হাসিমুখে সবাই হলে ফিরে গেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থার জন্য চেষ্টা করছি। নির্মাণাধীন দুইটি হল ও মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে এর সমাধান হয়ে যাবে।

এসময় তিনি সিটের দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না বলে জানান। যারা তাদের কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন তাদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওয়ালি আসিফ ইনান।