রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল পৌনে ৩ কোটি টাকার সড়ক
daily-fulki

সাভারে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ল পৌনে ৩ কোটি টাকার সড়ক


স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলায় জাইকার অর্থায়নে নির্মিত একটি সড়ক উদ্বোধনের আগেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে।
উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়নের নলাম এলাকায় এইচবিবি সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
 

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকার দুই কোটি ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় সাড়ে ১২০০ মিটার দীর্ঘ এই সড়ক ধসে যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাভার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফাইজুল ইসলাম।


তিনি বলেন, “যেভাবে কাজ হওয়ার কথা ছিল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেভাবে কাজ করেনি। ঠিকাদারের শেষ বিল আটকে রাখা হয়েছে। সড়ক ঠিক করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের (ডিআরএমইপি) আওতায় নলাম এলাকার মুকেন্দ্র হাউস থেকে কারিগরপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত এই সড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে তিনটি ছোট কালভার্টও রয়েছে। সড়কটির দৈর্ঘ্য এক হাজার ২৭৫ মিটার এবং প্রস্থ তিন মিটার।


‘মেসার্স সালেহা এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে। ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।


চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর কয়েকদিন পরই সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দেয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ফাইজুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো সংস্কার করতে নতুন করে বাজেট নিতে হবে। কালভার্টের গোড়ার পিলারসহ ভেঙে যাওয়া অংশগুলো ঠিক করা হবে।”


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে অনিয়মের কারণে সড়কটি ধসে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা করা হয়েছে। কিন্তু এখন গাড়ি চলা তো দূরের কথা, মানুষ হেঁটে চলতেও ভয় পাচ্ছে। গাইডওয়াল ঠিকমত না দেওয়ায় মাটি ধসে গেছে।”


রবিন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “পুরো সড়কের কাজেই অনিয়ম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে পড়ছে।”
জয়নব বেগম বলেন, “কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই সড়ক ভাঙতে শুরু করে। এখন ভাঙা জায়গায় বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে।”


তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালেহা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম সুমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশগুলো আমরা ঠিক করে দেব। এরপর কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”


সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ঠিকাদার কাজ শেষ করলেও আমরা এখনও সড়ক বুঝে নিইনি। একটি বিল আটকে রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ঠিক না করা পর্যন্ত কোনো বিল দেওয়া হবে না।”


তিনি বলেন, “কালভার্টের গোড়াসহ ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার করা হবে।”
 

সর্বাধিক পঠিত