রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আশুলিয়ায় শাহিনা হত্যা মামলায় প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড
daily-fulki

আশুলিয়ায় শাহিনা হত্যা মামলায় প্রেমিকের মৃত্যুদণ্ড


স্টাফ রিপোর্টার : প্রায় ছয় বছর আগে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় পোশাক শ্রমিক শাহিনা খাতুনকে হত্যার মামলায় তার প্রেমিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা জজ মুনির হোসেন এ রায় দেন।


সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব এ তথ্য দিয়েছেন।


মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম শরিফুল ইসলাম। তার উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর কথা বলেছেন বেঞ্চ সহকারী।
তিনি বলেন, “মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাভোগ করতে হবে।


মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জিরাবো এলাকায় অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করতেন শাহিনা খাতুন। শরিফুলও ওই এলাকার আরেকটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।


শরিফুল বিবাহিত ও দুই সন্তানের বাবা হলেও শাহিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা ওই এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। এক পর্যায়ে বিয়ের জন্য তাকে শাহিনা চাপ দিলে শরিফুল স্ত্রীর কাছে চলে যেতে চান। এ নিয়ে দুই জনের মধ্যে ঝামেলা তৈরি হয়।


এরই জের ধরে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে তাদের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শরিফুল গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে শাহিনাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে দরজায় তালা দিয়ে চলে যান তিনি।


তিন দিন পর আশেপাশের লোকজন বিষয়টি খবর দিলে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শাহিনার ভাই মো. রাহিন সে বছরের ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পাঁচ মাস পর শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যার দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন।


তদন্ত শেষে ৩০ অক্টোবর শরিফুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. ফজল আলী। ২০২২ সালের ৭ মার্চ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।


বিচার চলাকালে আদালত ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আত্মপক্ষ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করে আদালত রোববার আসামিকে সর্বোচ্চ সাজা দিয়ে রায় দিল।

 

সর্বাধিক পঠিত