শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আর্জেন্টিনা-উরুগুয়েসহ অতীতে বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল যেসব দেশ
daily-fulki

আর্জেন্টিনা-উরুগুয়েসহ অতীতে বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল যেসব দেশ


ফুলকি ডেস্ক : বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে বাইরের বিনিয়োগ টানার ফিফা প্রস্তাব ঘিরে সম্প্রতি বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। পরবর্তীতে ইউরোপিয়ানদের সেই কঠোর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায় উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ-ও।


শেষ পর্যন্ত ফিফা পিছু হটলেও, ‘বিশ্বকাপ বর্জন’-এর মতো চরম সিদ্ধান্ত ফুটবলাঙ্গনে একেবারেই নতুন কিছু নয়। ফুটবলের মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, সাংগঠনিক বিরোধ কিংবা বৈষম্যের প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বয়কটের একাধিক নজির রয়েছে ইতিহাসে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম বড় ধরনের বর্জনের ঘটনা ঘটে ১৯৩৪ সালে। ১৯৩০ সালের প্রথম আসরের আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ইতালিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বকাপে অংশ নিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানায়।


কারণটা ছিল রূপক প্রতিশোধ! প্রথম আসরে অনেক ইউরোপীয় দেশ সুদূর উরুগুয়েতে ভ্রমণ করতে রাজি হয়নি। তারই মোক্ষম জবাব হিসেবে চার বছর পর ইতালি বিশ্বকাপ বয়কট করে বসে লাতিন আমেরিকার দেশটি।
পরের আসরেই অর্থাৎ ১৯৩৮ ফ্রাঙ্কো-বিশ্বকাপেও দেখা যায় একই নাটক। এবার বর্জনকারীর তালিকায় নাম লেখায় আর্জেন্টিনা।


সেবার টুর্নামেন্টটি দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে আয়োজনের তীব্র দাবি জানিয়েছিল তারা। কিন্তু সব উপেক্ষা করে ফ্রান্সকে আয়োজক হিসেবে বেছে নেওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে নাম প্রত্যাহার করে নেয় আলবিসেলেস্তারা।
১৯৫৮ সালের বাছাইপর্বে আবার রাজনৈতিক সংঘাতের জের এসে পড়ে ফুটবল মাঠে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামতে সরাসরি মানা করে দেয় তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মিসর ও সুদান। ফলে একটি ম্যাচ না খেলেই মূল পর্বের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় ইসরায়েল।


যদিও পরবর্তীতে প্লে-অফে ওয়েলসের কাছে হেরে মূল আসরের স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
তবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আন্দোলন গড়ে উঠেছিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপের আগে। ফিফার বরাদ্দে তীব্র বৈষম্যের প্রতিবাদে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (ক্যাফ) আওতাধীন ১৫টি দেশ একযোগে বাছাইপর্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। তাদের ক্ষোভের মূল কারণ ছিল—ইউরোপকে একাই ১০টি স্পট দেওয়া হলেও আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সব দেশের জন্য বরাদ্দ ছিল মোটে ১টি টিকিট!

সবচেয়ে নাটকীয় ও কলঙ্কজনক বয়কটের সাক্ষী ১৯৭৩ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের ভয়াবহতায় সান্তিয়াগোতে গিয়ে প্লে-অফ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। ফিফা সূচি পরিবর্তন না করায় ঘটে এক আজব ঘটনা! চিলির খেলোয়াড়েরা খালি মাঠে প্রতিপক্ষ ছাড়াই খেলতে নামেন। রেফারি বাঁশি বাজানোর পর ফাঁকা জালে একটি গোল করার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই চিলিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়!

ইতিহাসের এসব পাতা স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল মাঠের ফুটবল নয়—রাজনীতি, সাংগঠনিক কোন্দল এবং প্রতিনিধিত্বের লড়াইও যুগে যুগে প্রভাব ফেলেছে ফুটবলের এই মহারণে। সাম্প্রতিক বিতর্ক আপাতত থামলেও, অতীতের এই বিতর্কিত ইতিহাস ফের নতুন করে ফিরে এসেছে আলোচনায়। 
 

 

সর্বাধিক পঠিত