বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আশুলিয়ায় মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে অবৈধ অটোরিক্সা
daily-fulki

আশুলিয়ায় মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করছে অবৈধ অটোরিক্সা


স্টাফ রিপোর্টার : নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক জুড়ে দিন দিন বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার আধিপত্য। একসময় যেখানে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অন্যান্য মোটরযানের স্বাভাবিক চলাচল ছিল, সেখানে এখন অধিকাংশ সড়ক দখল করে চলছে অসংখ্য ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিক্সা। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট, সড়কে বিশৃঙ্খলা এবং বাড়ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি।


বিশেষ করে আশুলিয়া অঞ্চলের মহাসড়কের বাইপাইল, জামগড়া, পল্লী বিদ্যুৎ, জিরাবো, নয়ারহাট, ইয়ারপুর, আশুলিয়া বাজার, কাঠগড়া এলাকার রাস্তাসহ নবীনগর থেকে চন্দ্রা বা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়ক ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার অবাধ চলাচল রয়েছে। সড়কের মাঝখানে যাত্রী ওঠানামা, যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা, হঠাৎ দিক পরিবর্তন ও উল্টাগমন এবং ট্রাফিক নিয়ম না মানার কারণে প্রায়ই যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।


শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী এসব সড়ক ব্যবহার করেন। অফিসে যাওয়া ও ছুটির সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার অতিরিক্ত চাপের কারণে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ব্যাপক ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক চালকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে বিন্দু পরিমাণ ধারণা নেই। অটোরিক্সার কোনো নিবন্ধন নেই, তা ছাড়াও নেই কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফলে তারা মহাসড়কসহ ব্যস্ত সড়কেও ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। এতে আশুলিয়ায় প্রায় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যা পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি জি.এম মিন্টু বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে প্রয়োজনীয় হলেও মহাসড়ক বা ব্যস্ত প্রধান সড়কে এসব যান চলাচল অতিরিক্ত হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


চালকদের অনেকেরই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় সড়কে প্রায়ই বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই, প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিকল্প সড়ক নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করুক।


শ্যামলী পরিবহনের চালক আব্দুল হালিম বলেন, অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার কারণে আমরা স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালাতে পারি না। এছাড়াও অবৈধ অটোরিক্সার কারণে বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ডগুলোতে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। আমরা মহাসড়ক থেকে অবৈধ অটোরিক্সা বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।


পরিবহন শ্রমিক নেতা আবুল হায়াত বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা স্বল্প দূরত্বে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এর নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, লাইসেন্সিং, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকি ছাড়া এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।


স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েক দিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে সবকিছু। ফলে প্রশাসনের কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সার চলাচল আইনসম্মত নয়। এসব যানবাহনের কারণে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইন প্রয়োগ দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


আশুলিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, শিল্পকারখানার বিস্তার এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সড়ক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন না হলে ভবিষ্যতে যানজট ও দুর্ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক সড়ক নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা বিশেষ প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত