স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে সোস্যাল আপলিফটমেন্ট সোসাইটি (সাস) বাস্তবায়িত রেইজ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত চাকুরি মেলা ২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত এ মেলায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ ও তরুণীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশী এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল থেকে সাভার থানা রোডস্থ বাগানবাড়ী রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ চাকুরি মেলায় প্রায় ৩৬৫ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ ও তরুণী অংশ নেন। এর মধ্যে ১৫৮ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ ও তরুণীর চাকুরি নিশ্চিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সোস্যাল আপলিফটমেন্ট সোসাইটি (সাস)-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জাবের মো. সোয়াইব।
মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর মহাব্যবস্থাপক (কার্যক্রম) ও রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার চক্রবর্তী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হামিদা বেগম। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় ছিলেন রেইজ প্রকল্পের সমন্বয়কারী বাবুল মোড়ল।
বক্তারা বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের জন্য চাকুরি মেলার আয়োজন তাদের কর্মজীবনে প্রবেশের একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।
দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রেইজ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চাকুরি মেলার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৫১ জনকে আউটরিচ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। ১ হাজার ২৫১ জন তরুণ উদ্যোক্তাকে ঋণ ও প্রশিক্ষণ, ৩০০ জন কোভিড ১৯-এ ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাকে পুনরুদ্ধার সহায়তা এবং ৮০০ জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭২২ জন ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যবসা উন্নয়ন এবং ঋণ সহায়তার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চাকুরি মেলায় অংশগ্রহণকারী তরুণরা এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে সরাসরি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাওয়ায় চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়েছে।
