সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে ঘোড়ার সস্তা মাংস চড়া মূল্যে বিক্রি হতো গরুর গোস্ত হিসেবে
daily-fulki

সাভারে ঘোড়ার সস্তা মাংস চড়া মূল্যে বিক্রি হতো গরুর গোস্ত হিসেবে

 


স্টাফ রিপোর্টার : সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে নির্জন ও পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘোড়া জবাই করে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুরের কাশিমপুর এবং আশুলিয়ার বিভিন্ন সাধারণ হোটেল ও বিরিয়ানি দোকানে মাংস বিক্রি করে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অসাধু চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।


জানা গেছে, তৈয়বপুর এলাকার ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে আস্তানা হিসেবে বেছে নেয় চক্রটি। দিনজুড়ে বাড়িটি ফাঁকা থাকলেও রাতের আঁধার নামলেই বাড়ত তাদের তৎপরতা। স্বল্প আলো ও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখে প্রতিদিন সেখানে একাধিক ঘোড়া জবাই করা হতো। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সবাই কৌশলে পালিয়ে যায়। ফলে চক্রটির বিস্তারিত পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


অভিযোগ রয়েছে, এই অসাধু চক্রটির নেপথ্যে রয়েছেন রংপুর মার্কেট এলাকার আলফাজ নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিতে বর্জ্যের দুর্গন্ধ ও নির্জন পরিবেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করত তারা। পরবর্তীতে এখান থেকে কম দামে সংগৃহীত মাংস গরুর মাংস বলে সরবরাহ করা হতো উত্তরা, কাশিমপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয়।


আরও জানা গেছে, পরিত্যক্ত বাড়ির কয়েকটি কক্ষ ব্যবহার করে এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো। রাত ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘোড়াগুলো সেখানে নিয়ে যাওয়া হতো। এরপর কয়েকজন মিলে রাতভর জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার কাজ করতেন। ভোরে সেই মাংস আশুলিয়া, কাশিমপুর ও উত্তরের বিভিন্ন হোটেল ও বিরিয়ানি দোকানে পৌঁছে দেওয়া হতো।


এলাকার বর্জ্য সংগ্রাহক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দু-এক দিন পর পর আলফাজ নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে আমাকে পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে যেতে বলতেন। এরপর কয়েকজন এসে বস্তায় রাখা ময়লা-আবর্জনা দিয়ে যেত। বস্তাগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতো। মাঝে মাঝে খুলে দেখতাম ভেতরে পচা ও রক্তাক্ত বর্জ্য রয়েছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।
ইয়ারপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আছমা বেগম গণমাধ্যমকে, তৈয়বপুরের এই পরিত্যক্ত বাড়িটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন ছিল। রাতের আঁধারে নির্জন জায়গায় এমন জঘন্য ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চলা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনাটি সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ বাড়িটির সামনে ও পেছনে দুটি আলাদা পথ রয়েছে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা খবরটি জেনেছি। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে এবং সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
 

সর্বাধিক পঠিত