ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) উপমহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী যশোমাধবের উল্টো রথযাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদি শেষে বিকেল ছয়টায় যাত্রাবাড়ীর মন্দির থেকে মাধববিগ্রহসহ অন্য বিগ্রহগুলো নিয়ে রথে উঠানো হয়। এরপর প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এ সময় যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটি ও রথাত্রা উৎসবের সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথিসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ¦ তমিজ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মোরাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আল মামুন বক্তব রাখেন। পরে প্রধান অতিথি পুরোহিত উজ্জল গাঙ্গুলির হাতে রথটানের প্রতীকী রশি তুলে দেন। বিকেল ছয়টা ২০ মিনিটে ভক্তরা পাটের রশি ধরে টেনে নিয়ে যায় শ্রী শ্রী যশোমাধকে তার কথিত শ্বশুরালয় যাত্রাবাড়ির মন্দির থেকে নিজ বাড়ি মাধব মন্দিরে।
এ সময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ পূণ্য লাভের আশায় কলাপাতার মধ্যে চিনি ও কলা নিক্ষেপ করে মাধবের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুক্রবার উল্টো রথটানার মধ্য দিয়ে যশোমাধবের রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। তবে মেলা চলবে আরও ২০দিন।
এ উপলক্ষে ধামরাই কায়েতপাড়া থেকে লাকুরিয়াপাড়ার আবদুস সোবহান মডেল হাই স্কুল পর্যন্ত প্রায় অর্ধকিলোমিটার সড়ক জুড়ে দেশখ্যাত সার্কাস দল,নাগরদোলা, ফুসকা, বেদেনীদের চুড়ি, শিশুদের খেলনা, কাঠের ফার্নিচার, তৈজসপত্র, কাঁসা-পিতল ও কুটির শিল্পের কয়েক’শ স্টল বসেছে।
এ উৎসবে দেশ-বিদেশ থেকে হিন্দু-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার ভক্তসহ প্রায় লক্ষাধিক দর্শকের সমাগম ঘটে ধামরাইয়ে। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লাপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এ রথযাত্রা শুরু হয়। পৌরসভার কায়েকতপাড়ায় যশোমাধবের মূল মন্দির রয়েছে।
সেখান থেকে গত ১৬ জুলাই যশোমাধব বিগ্রহসহ তার কথিত শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন গোপনগরের যাত্রাবাড়ী মন্দিরে। এখানে তিনি ৯ দিন অবস্থান করেন। পরে তিনি শুক্রবার আবার রথে উঠে কায়েতপাড়ায় নিজ বাড়ি মাধব মন্দিরে গেছেন। এই যাত্রাকে বলা হয় উল্টো রথযাত্রা।
