আশুলিয়া প্রতিনিধি : প্রায় পাঁচ মাস ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন টাঙ্গাইল সদর থানার একটি ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মো. সাদিকুল (১৯)। শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাবের দাবি, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নিজের এলাকা ছেড়ে অবস্থান পরিবর্তন করে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। পরে তার অবস্থান শনাক্তে র্যাব-১৪, সিপিসি-৩ (টাঙ্গাইল) এবং র্যাব-৪, সিপিসি-২ (নবীনগর ক্যাম্প) যৌথভাবে নজরদারি শুরু করে।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার চাপাই হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. সাদিকুল টাঙ্গাইল সদর থানার আলোকদিয়া এলাকার মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত প্রায় ৯টার দিকে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর শোবার ঘরে প্রবেশ করে অভিযুক্ত। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর অভিভাবক ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। তবে সুযোগ বুঝে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে টাঙ্গাইল সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ধর্ষণের অভিযোগে নিয়মিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত নিজ এলাকা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যায়। তার অবস্থান শনাক্তে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর র্যাব মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
তথ্যপ্রযুক্তি, মানব গোয়েন্দা (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) এবং ধারাবাহিক নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অভিযুক্ত আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর আরমান হোসেন হৃদয় বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে র্যাব-১৪ ও র্যাব-৪ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
