বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
নিম্নমানের পাথর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
daily-fulki

নিম্নমানের পাথর ও মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

 


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : নিম্নমানের পাথর সরবরাহ ও হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। গত ১৮ জুলাই থেকে এ আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় পাথরবোঝাই ট্রাকে সরগরম থাকা সোনাহাট স্থলবন্দরের ওয়্যারহাউস এখন প্রায় ফাঁকা। গত চার দিন ধরে ভারত থেকে একটি পাথরবাহী ট্রাকও বন্দরে প্রবেশ করেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রবেশ করত। কিন্তু ১৮ জুলাই থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা কয়েক দিন ধরে রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট আকারের ও নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করছেন। এসব পাথর অটো ক্রাশিং মেশিনে ভাঙার পর কাঙ্ক্ষিত আকার পাওয়া যায় না। ফলে নির্মাণকাজে ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এসব পাথর কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
স্থলবন্দরের কমিশন এজেন্ট (ব্যবসায়ী) শুক্কুর আলী বলেন, “প্রতিদিন গড়ে ১৫ ট্রাক পাথর দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতাম। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকায় গত চার দিনে একটি ট্রাকও পাঠাতে পারিনি।

আমদানিকারক আবুল হোসেন ব্যাপারী বলেন, “কয়েক দিন আগেও প্রতি টন পাথরের দাম ছিল ১ হাজার রুপি। বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ৩০০ রুপিতে পৌঁছেছে। অথচ প্রতিদিন প্রায় ১০০ ট্রাক পাথরের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ ট্রাক। তার ওপর দেওয়া হচ্ছে ছোট আকারের, ময়লাযুক্ত ও নিম্নমানের পাথর। এ কারণে আপাতত আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বলেন, “ভারত থেকে বর্তমানে যে পাথর সরবরাহ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত নিম্নমানের। এসব পাথর দিয়ে নির্মাণকাজের মান বজায় রাখা সম্ভব নয়। তাই ঠিকাদাররাও এসব পাথর কিনতে চাইছেন না।

এ বিষয়ে সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক আমিনুল হক বলেন, “দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট সমস্যার কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের আশা, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা মানসম্মত পাথর সরবরাহ এবং মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে এলে দ্রুত সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত