বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: ৮০ ভাগ কাজ শেষ হওয়া প্রকল্পের ব্যয় যে কারণে ৫৪% বাড়ল
daily-fulki

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: ৮০ ভাগ কাজ শেষ হওয়া প্রকল্পের ব্যয় যে কারণে ৫৪% বাড়ল


স্টাফ রিপোর্টার : চীনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হওয়ার পরও ব্যয় এক লাফে ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়।
কেন বাড়ানো হল প্রকল্প ব্যয়? বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে এ প্রশ্নের মুখে পড়েন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখানে আসলে ঢাকা-আশুলিয়া যে প্রকল্পের খরচটা এখন বৃদ্ধি পেয়েছে, তার দুটো কারণ আছে।


“একটা হচ্ছে মূলত ডলার রেট একটা বড় আকারে পরিবর্তন ঘটেছে। সেই ডলারের পরিবর্তনের কারণেই আবার কতগুলো ভ্যাট, ট্যাক্সসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের জায়গা আছে।”
অপর কারণটির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “এখানে নতুন একটা অঙ্গ সংযোজন হয়েছে। তো সেই অঙ্গ সংযোজনের ফলেও খরচের একটি বৃদ্ধি আছে।


“আর কিছু ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তর, যেটা মূল ডিপিপিতে সেখানে ছিল না—যার ফলে ইউটিলিটি লাইন স্থানান্তরে একটা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর পাঁচটি নতুন অঙ্গ সংযোজনের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দুটোই আসলে মূলত খরচ বৃদ্ধি। বাকিটা মূলত ডলারের রেট সমন্বয় এবং তদঅনুযায়ী যে ভ্যাট-ট্যাক্সের হিসাব, সেটা।”


২০১৭ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা; এর মধ্যে চীনের অর্থায়নের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে ওই বছর জুনেই প্রকল্প প্রস্তাবে প্রথম সংশোধনী আনা হয়।


এতে প্রকল্প ব্যয় ৬৫২ কোটি টাকা বেড়ে ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা দাঁড়ায়। তবে ওই সময় চীনের অর্থায়নের পরিমাণ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা।
সবশেষ বুধবার একনেকে এ প্রকল্পের ব্যয় ৯ হাজার ৪৯২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ বাড়ল এক লাফে ৫৪ শতাংশ টাকা।
এতে সরকারের সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা এবং চীনের অর্থায়ন ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
সংশোধিত প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
আরও যেসব প্রকল্পের অনুমোদন


এদিন এই প্রকল্প ছাড়াও আরও আটটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প তিনটি ও সংশোধিত প্রকল্প চারটি।
অনুমোদিত প্রকল্প হল:


>> স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৩৬৮ কোটি ব্যয় বৃদ্ধি করে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (প্রথম সংশোধন) প্রকল্প (২)। প্রকল্পটির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।


>> একই মন্ত্রণালয়ের বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প”। নতুন এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।
>> এই মন্ত্রণালয়েরই ২ হাজার ৮২ কোটি ব্যয়ের পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।
>> দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধিত)’।
>> বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১১৭ কোটি টাকা ব্যয় কমিয়ে ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ (তৃতীয় সংশোধন)’ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এখন ব্যয় দাঁড়াল ১ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা।


>> একই মন্ত্রণালয়ের ৭২৯ কোটি টাকার একটি ‘মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫)’ ও দুটি ‘অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্প।
>> স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনী ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার কিডনী ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধন)’ প্রকল্প। ৮১ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩৭৫ কোটি টাকা।
সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১১টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করেন।
সেগুলো হল:


১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
২. বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট, গৌরনদী বরিশাল স্থাপন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
৩. হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল মোবাইলে নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প।
৪. নলকা-সিরাজগঞ্জ–সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত ) চার লেণে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ দুই লেনে উন্নীতকরণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।


৫. পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙ্গা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া (জেড-৭৭০৪) জেলা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া হতে পাটগাতী সেতু এ্যাপ্রোচ পর্যন্ত অংশসহ জেড-৮৫০৪, জেড-৮৫০৭ ও জেড-৮৪২৯ জেলা সহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।
৬. ভুয়াপুর লিংক সড়ক (জেড-৪৮০২) নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।


৭. রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধন)।
৮. পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবন্ধন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।
৯. গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ছয়টি কেন্দ্র স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প।

 

সর্বাধিক পঠিত