স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হলেও দেশের বাকি অংশে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা যথারীতি চলবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো যেকোনো গুজবে কান না দিতে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার চলমান এইচএসসি পরীক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই সভায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
িক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় দেশের সার্বিক পরীক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সিংহভাগ অঞ্চলে পরীক্ষা গ্রহণের মতো অনুকূল ও সুষ্ঠু পরিবেশ রয়েছে। গতকাল (১৩ জুলাই) দেশের কেবল একটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি সব জায়গায় অত্যন্ত নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
তবে চট্টগ্রামে চলমান জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে সেখানকার পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বাদে দেশের অন্য সব বিভাগে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।
জরুরি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কোনো পরীক্ষা কেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিলে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তা দ্রুত অন্য স্থানে স্থানান্তরের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
ইতিমধ্যেই উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লার একটি পরীক্ষা কেন্দ্র অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত বা উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য আশ্বস্ত করেছে।
সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের চিত্র কিংবা পুরোনো বিভ্রান্তিকর ভিডিও ব্যবহার করে পরীক্ষা বাতিলের ভুয়া খবর বা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
এই বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রতিরোধে কড়া নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়া শান্তিময় পরিবেশে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও মাঠ প্রশাসনকে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী।
