জাবি প্রতিনিধি : ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মৌমিতা পরিবহনের বাসের হেলপারের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌমিতা পরিবহনের ছয়টি বাস আটক করেছেন। তবে বাস আটকাতে গিয়ে বাসচালক ও সহকারীদের ধাক্কায় আরও দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাবতলী থেকে মৌমিতা পরিবহনে ক্যাম্পাসে আসার সময় ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে মারধর করে হেলপার।
ভুক্তভোগী হিরু মিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। আহত অন্য দুই শিক্ষার্থী হলেন, একই বিভাগের রাগিব মারজান শিশির ও ইয়াছির আরাফাত দীপ।
ভুক্তভোগী হিরু মিয়ার অভিযোগ, শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গাবতলী থেকে সাভারগামী মৌমিতা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা-মেট্রো-ব ১৩-১৭৮৬) ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন তিনি। পথে ভাড়া নিয়ে বাসের হেলপারের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হেলপার তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করলে তিনি আহত হন এবং বিষয়টি মুঠোফোনে তার সহপাঠীদের জানান। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা বাসটি আটকানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন।
তবে চালক প্রধান ফটকে বাস না থামিয়ে দ্রুতগতিতে বিশমাইল এলাকার দিকে চলে যান। পরে বাসের ভেতরে থাকা অন্য যাত্রীরা আপত্তি জানালে চালক বাসটি থামাতে বাধ্য হন। এসময় বাসটি আটকাতে রাগিব মারজান শিশির বাসে ওঠার চেষ্টা করলে, চালক তাকে ধাক্কা দিয়ে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময় বাসের স্টাফরা ইয়াছির আরাফাত দীপকেও মারধর করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসটি আটক করে ক্যাম্পাস অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় রাগিব মারজান শিশিরের ডান কাঁধের জয়েন্ট স্থানচ্যুত হয় এবং ইয়াছির আরাফাত দীপের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটা জখম হয়। আহত শিশিরকে প্রথমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাভারের ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা তার পর্যালোচনা করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) রেফার করেন।
এদিকে, ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা মৌমিতা পরিবহনের আরও পাঁচটি বাসসহ মোট ছয়টি বাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এনে আটকে রাখেন এবং অভিযুক্ত পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে মৌমিতা পরিবহনের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট লাইনম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরিবহনটির ম্যানেজারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবহন কর্তৃপক্ষের ম্যানেজারকে ডেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
