স্টাফ রিপোর্টার : টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক কলোনি, আড়াপাড়া, বাজার রোড, পাকিজা মোড়, ইমান্দিপুর, নিউ মার্কেটের সামনে, রেডিও কলোনি, শাহীবাগ, গেন্ডা, তালবাগ, রাজাবাড়ি, ডগরমোড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বহু বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, দিনমজুর এবং নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। অনেকেই প্রয়োজনীয় কাজ থাকা সত্ত্বেও ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। কোথাও কোথাও যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
সাভারের পাকিজা মোড়, যা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন ঢাকায় কর্মস্থলে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অফিস সময়ে বাসে উঠতে কিংবা রাস্তা পার হতে গিয়ে অনেককে পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
অফিসগামী এক ব্যক্তি বলেন, আমি প্রতিদিন পাকিজা মোড় থেকে ঢাকায় অফিস করি। সামান্য বৃষ্টি হলেই এখানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। বাসে উঠতে কষ্ট হয়, কাপড়-জুতা ভিজে যায়। অফিসে সময়মতো পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
সাভার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে যেতে প্রতিদিন পানি পার হতে হয়। অনেক সময় জুতা হাতে নিয়ে হাঁটতে হয়। ভেজা কাপড় নিয়ে ক্লাস করতে খুবই অস্বস্তি লাগে।
দিনমজুরের আলমগীর হোসেন ভাষায়, বৃষ্টি হলে কাজই থাকে না। ঘর থেকেও বের হতে পারি না। কাজ না করলে আয় নেই, আর আয় না থাকলে পরিবারের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে যায়।
নদী-খাল থাকার পরও কেন জলাবদ্ধতা? স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাভার পৌর এলাকার চারপাশে বংশী নদী, ধলেশ্বরী নদীসহ একাধিক খাল ও জলাধার থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টির পানি দ্রুত নামছে না কেন?
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল ও ভরাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং অনেক স্থানে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু নতুন ড্রেন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বিদ্যমান খাল ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ সংরক্ষণ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত ড্রেনেজ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগ চলতেই থাকবে।
এদিকে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, খাল ও ড্রেন সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সাভারের বাসিন্দারা। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে বর্ষাকালে এমন দুর্ভোগ থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।
