ধামারাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে দুই ভাইকে অপহরণ, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। এ সময় অপরাধে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে গাজীপুর মহানগরীর গাছা ও বাসনা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সাঈদ আল হাসান শাকিল (২৯), মো. সবুজ ওরফে সাগর (৩০), মো. জুয়েল হাওলাদার ওরফে জাহিদুল (৩৫) এবং মো. মোশারফ আলী (৩৫)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টারদিকে আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ খান ও তাঁর ছোট ভাই সিয়াম খন্দকার ব্যবসায়িক কাজে সাভারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধামরাইয়ের কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে তাদের সামনে থামে। গাড়ি থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে দুই ভাইকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নেয়।
পরে চলন্ত মাইক্রোবাসের ভেতরেই দুই ভাইয়ের চোখ ও মুখ কসটেপ দিয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ ২ লাখ ৬২ হাজার ২১০ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অপহরণকারীরা। একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ২০ মিনিটে মানিকগঞ্জের পুখুরিয়া এলাকার একটি ইটভাটার সামনে দুই ভাইকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ খান বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাওছার ও জুলফিকারের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডিবি পুলিশের পরিচয়ে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের ব্যবহৃত সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
