সিংগাইর ( মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার একটি পাটক্ষেত থেকে এক কিশোর অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অটোরিকশার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করেন পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি স্যান্ডেলকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১২টারদিকে সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকায় উদ্ধার করেন থানা পুলিশ ।
নিহত সাকিবুল ইসলাম (১৭)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম রহমত ওরফে টুলু এবং পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায় , প্রথমে অটোরিকশার সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তিনটি স্যান্ডেল জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্বপন (২২) নামে এক ফার্নিচার ডিজাইনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বুধবার (০১ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশনা দেন।
