বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনী মাঠে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান
daily-fulki

নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনী মাঠে ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান


ফুলকি ডেস্ক : ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চার মাস আগে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।


দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করার লক্ষ্য তার।
মঙ্গলবার প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, 'ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।' তিনি আরো বলেন, আগামী অক্টোবরে গঠিত হতে যাওয়া সরকার যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।


ওই হামলায় হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ঘটে। 
আইজেনকোট বলেন, 'আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলব। এটি হবে ভালো একটি অধ্যায়। কারণ ইসরায়েলকে জিততেই হবে, আর ইসরায়েল জিতবেই।


গাজা যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি ও নেতৃত্বের অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন আইজেনকোট। তিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। হিব্রু ভাষায় ‘ইয়াশার’ শব্দের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘ন্যায়নিষ্ঠ’। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকোটের দল পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ২৪টি আসন।


মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকোট সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে গাল নিহত হওয়ার পর তার প্রতি জনসমর্থন আরো বেড়ে যায়। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।

৬৬ বছর বয়সী আইজেনকোট ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। তখন তিনি সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে তার অবস্থান খুব বেশি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, ইসরায়েলের জন্য এখন একটি সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়নবাদী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার যেখানে ভিন্ন চিন্তার মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে পারবেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই। তার দাবি, 'এমন নেতৃত্বকে সরাতে হবে, যারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।' সমাবেশে তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত সমর্থকেরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।

 

সর্বাধিক পঠিত