আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডে কাজ করার সময় অন্তত ২৫ জন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মাথাঘোরা, বমি ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে তাঁদের সাভারের ল্যাব জোন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তদন্ত করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এক হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মস্থলে যোগ দেন। সকাল ১০টার পর থেকে একে একে শ্রমিকেরা অসুস্থ হতে শুরু করেন। পরিস্থিতির অবনতি হলে অন্তত ২৫ জনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ল্যাব জোন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ম্যাগপাই কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ফায়ার সেফটি কর্মকর্তা নাহিদ হাসান বলেন, প্রথমে শ্রমিকদের মাথা ঘুরতে শুরু করে। পরে বমি বমি ভাব, বমি এবং কয়েকজনের ক্ষেত্রে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
নাহিদ হাসান আরও বলেন, সোমবারও দুপুরের খাবারের পর ১০ থেকে ১২ জন একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অপারেটর সেলিনা আক্তার বলেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করে। এরপর বমি বমি ভাব হয় এবং একপর্যায়ে বমি করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখি হাসপাতালে আছি।’
শ্রমিক রুপালি বেগম জানান, প্রথমে তাঁর মাথা ঘোরায়, পরে বমি বমি ভাব শুরু হয়। অসুস্থ বোধ করায় তিনি কারখানার মেডিকেল সেন্টারে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, তাঁর মতো আরও অনেক শ্রমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ল্যাব জোন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘অসুস্থ শ্রমিকদের অধিকাংশই মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব ও বমির উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। কয়েকজনের অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের কারখানার মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, কোরবানির ঈদের আগ থেকেই আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা জেনেছেন, অতিরিক্ত গরম, কারখানার ভেতরে অক্সিজেনের স্বল্পতা, পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাব এবং রক্তশূন্যতার মতো কারণ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
সাইদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার অন্তত ছয়টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। এসব কারখানাতেও বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের একই ধরনের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
