আশুলিয়া প্রতিনিধি : আশুলিয়ায় স্ত্রীর পরকীয়া, অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিচার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী স্বামী। গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) আশুলিয়া থানায় পেশায় গ্রাফিক্স ও ছাপাখানা ব্যবসায়ী মোঃ সাগর আহমেদ (৩৭) তার স্ত্রী’র বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি দায়ের করেন।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্তরা হলেন, সাগর আহমেদের স্ত্রী শান্তা ইসলাম (২৮) এবং সাভার সদর ইউনিয়নের উত্তর কলমা এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মোঃ শাহীন (৪৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে সাগর আহমেদ ও শান্তা ইসলামের বিয়ে হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ১৩ ও ২ বছর বয়সী দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সম্প্রতি স্ত্রী শান্তা ইসলাম তাঁর অগোচরে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শাহীনের সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাধা দিলে শান্তা ইসলাম উল্টো স্বামীকে বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি দেন। পাশাপাশি স্বামী ও সন্তানদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন।
এ অবস্থায় ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) শান্তা ইসলাম স্বামীর অজান্তে ঘর থেকে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আউকপাড়ার মজিদ মার্কেটের ‘কেয়া জুয়েলার্স’-এ বন্ধক রাখেন। সেখান থেকে প্রাপ্ত নগদ ৩ লক্ষ টাকা তিনি পরকীয়া প্রেমিক শাহীনকে দিয়ে দেন। এ বিষয়ে স্বামী জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুর আনুমানিক ১২টারদিকে শান্তা ইসলাম ঘর থেকে গচ্ছিত আরও নগদ ১ লক্ষ টাকা নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। এ ঘটনায় স্ত্রীর বাবার কাছে প্রতিকার চাইতে গেলে তিনিও উল্টো মেয়ের পক্ষ নেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শাহীনের বিরুদ্ধে এ ধরনের নৈতিক স্খলন ও প্রতারণার অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এরআগেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একাধিক নারীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল ও সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। লোকলজ্জা ও ভয়ে আগে কেউ মুখ না খুললেও, শান্তা ইসলামের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উক্ত নেতার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার আকস্মিকতায় বিপদগ্রস্ত স্বামী সাগর আহমেদ বলেন, “স্ত্রীর এমন বেপরোয়া আচরণ এবং অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে চলে যাওয়ার ফলে আমি আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনার করতে গিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় চলছে। আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
