বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে লেগুনা থেকে ১৫ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
daily-fulki

সাভারে লেগুনা থেকে ১৫ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারী থাকলেও সাভার উপজেলার আশুলিয়া ও চারাবাগ -সাভার বাসস্ট্যান্ড-হেমায়েতপুর রুটে চলাচলকারী লেগুনা থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় হচ্ছে। এ চাঁদা আদায়ের পরিমাণ মাসে কমবেশি ১৫ লক্ষ টাকা।

ভুক্তভোগী চালকদের দাবি, প্রতিটি লেগুনাকে প্রতিদিন তিনটি স্থানে মোট ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে হয়রানি, গাড়ি আটকে দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি একাধিক চালককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশুলিয়া, চারাবাগ-সাভার বাসস্ট্যান্ড-হেমায়েতপুর রুটে প্রায় সাড়ে ৩শ’টি বেশি লেগুনা চলাচল করে। কিছু লেগুনা নষ্ট থাকে। কিছু ড্রাইভার ছুটি কাটায়। তাই গড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫০টি লেগুনা চলাচল করে।


অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি গাড়ি থেকে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১৫০ টাকা, লাইনম্যান বা কমিউনিটি পুলিশের নামে চারাবাগে ২০ টাকা এবং হেমায়েতপুর এলাকায় ৩০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এতে প্রতিটি লেগুনাকে দৈনিক মোট ২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।


অভিযোগের ভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, সাভার বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন ২০৫টি লেগুনা থেকে ১৫০ টাকা হিসেবে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। মাসিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।


হেমায়েতপুর এলাকায় প্রতিদিন ২৫০টি লেগুনা থেকে ৩০ টাকা হিসেবে ৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়। মাসিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা।


আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় প্রতিদিন ২৫০টি লেগুনা থেকে ২০ টাকা হিসেবে ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়। মাসিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে হিসেবে এ ৩টি স্থানে লেগুনা থেকে মাসে কমবেশি ১৫ লাখ টাকা চাঁদা উঠে। এই বিপুল অর্থ কোথায় যায় এবং কারা এর সুবিধাভোগী, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 


চালকদের অভিযোগ, সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার পুরাতন ওভারব্রিজের নিচে পশ্চিমপাশে প্রতিদিন প্রকাশ্যেই দুই ব্যক্তি লেগুনা থেকে চাঁদা আদায় করেন। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেই। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই এ রুটে চাঁদা আদায়ের প্রথা চালু ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅদ্ভুথ্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের এ কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবার নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় শুরু হয়েছে। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লেগুনার ড্্রাইভার থেকে জানা যায়, ট্রাফিক পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে চালকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা না দিলে গাড়ি নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। কখনো ট্রাফিকের মাধ্যমে হয়রানি করা হয়, আবার কখনো লাইন থেকে গাড়ি সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তাই বাধ্য হয়েই সবাই টাকা দিচ্ছে।


আরেকজন চালক বলেন, আমাদের প্রতিদিনের আয়ের বড় একটি অংশ চাঁদা হিসেবে চলে যায়। এখন পরিবার চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস করে না। এত বড় অঙ্কের অর্থ প্রতিদিন প্রকাশ্যে আদায়ের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। 


তাদের মতে, সাভার বাসস্ট্যান্ডের মতো ব্যস্ত এলাকায় দিনের পর দিন চাঁদা আদায় হলেও যদি তা প্রশাসনের নজরে না আসে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আর যদি নজরে এসেও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে সেটি আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। 


সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগী চালক ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করবে এবং দীর্ঘদিনের এই চাঁদাবাজির অবসান ঘটাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


এ ব্যাপারে জানতে বুধবার রাত ১০টারদিকে সাভার উপজেলার টিআই এডমিনের মোবাইলে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।


এ ব্যাপারে জানতে বুধবার রাত সাড়ে ১০টারদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর আরাফাতুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে তাকে পাওয়া যায়নি। 


এ ব্যাপারে জানতে বুধবার রাত সোয়া ১০টারদিকে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।
 

সর্বাধিক পঠিত