সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক
daily-fulki

সিংগাইরে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক


সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিক্ষার্থীর শারীরিক সম্পর্কের ঘটনা সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যালয় ও এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষার একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্ন বিরতির সময়ে নিচতলায় অবস্থিত অষ্টম শ্রেণির ‘ক’ শাখার একটি শ্রেণিকক্ষে ঘটনাটি ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন দশম শ্রেণির ছাত্র তার বাড়ি উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে  এবং অন্যজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী একই ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।


সূত্রমতে, ঘটনার বিষয়টি কয়েকদিন গোপন থাকলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার (১৫ জুন) তা প্রকাশ্যে আসে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠায়।


একাধিক সূত্রের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে দুই শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ আচরণের বিষয়টি ধরা পড়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক বা আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরীফ মৃধার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর মায়ের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত সিদ্ধান্ত, তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করলেও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।


এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসেন মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনি প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলুন।” এরপর তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরীফ মৃধার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিভাবকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন।


এ ব্যাপারে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর আপত্তিকর কথাবার্তা সিসিটিভি ফুটেছে ধরা পড়ে পরে বিষয়টি ইউএনর স্যারের অনুমতি নিয়ে অভিভাবকদের ডেকে সমাধান করা হয়েছে।
 

সর্বাধিক পঠিত