সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ধামরাইয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩
daily-fulki

ধামরাইয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটায় ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩


ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমি থেকে মাটা কেটে ইটভাটায় নেওয়ার সময় রবিবার গভীর রাতে তিন ট্রাক চালককে আটক করেছে পুলিশ। এসময় পাঁচটি ড্রাম্প ট্রাকও জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে ফসলি মাটি কাটায় জড়িত থাকায় তিনচালকসহ আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনসহ ১১ জনকে আসামি করে সোমবার (১৫ জুন) পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেছে। আটকরা হলেন আবু বক্কর সিদ্দিক, মোঃ হৃদয় ও আবু রায়হান। অন্য আসামিরা হলেন, উপজেলার মহিশাষী গ্রামের রাতুল, শোলধন গ্রামের জুয়েল, মধুডাঙ্গা গ্রামের রাফি মোহাম্মদ সজিব ও সুরুজ আহমেদ।


স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীদের সিন্ডিকেট ও ইটভাটার মালিকদের দৌরাত্মে ধামরাইয়ে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান ও জরিমানা সত্ত্বেও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে এই ধ্বংসলীলা পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না। ফলে দিনদিন কৃষি জমি কমে আসছে আর কৃষিপণ্য উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক জমির মালিক সাময়িক লাভের আশায় মাটি বিক্রি করে দেন যা আশেপাশের অন্যের কৃষি জমির জন্য মারাত্বক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

কৃষি জমির এই নিরব ধ্বংস যেন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে। রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশ এই ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় সাধারন কৃষকরা প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করে ভেকু জব্দ করছে। সেটা আবার জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। জরিমানা দিয়ে পুনরায় চক্রগুলো মাটি কাটা শুরু করায় স্থায়ী সমাধান মিলছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও বাস্তবে এসব পদক্ষেপের প্রভাব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে-কেন এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ ও কৃষি জমি রক্ষায় তাদের ভূমিকা একেবারে নাই বললেই চলে। 


পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে,ধামরাইয়ে বৈধ-অবৈধ মিলে ইটভাটা রয়েছে ১৮৪টি। এসব ইটভাটাগুলোর ব্যাপক চাহিদা মেটাতে রাতের আধাঁরে নির্বিচারে কৃষি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে। 


ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একটি ট্র্াকে একশ পঁচিশ ফুট মাটি বহন করে। প্রতি এক ট্রাক মাটিতে এক হাজার একশ ইট তৈরি হয়। প্রতি ইটভাটায় প্রতি মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ লাখ ইট তৈরি করা হয়। এতে প্রতি মৌসুমে প্রতি ইটভাটায় ৭ হাজার ২শত ৭২ ট্রাক মাটি ব্যবহার করা হয়। এতে ১৮৪টি ইটভাটায় ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৮১ ট্রাক মাটি লাগে। এসব ইটভাটাগুলোর মাটি সারা ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমি থেকে সংগ্রহ করা হয়। প্রায় ২০ বছর ধরে এসব ইটভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। 


উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল মামুন বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে প্রতিরাতেই অভিযান পরিচালনা করে ভেকু ও ট্রাক জব্দ করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে এরপরও বন্ধ করা দুরূহ হয়ে পড়ছে।   


স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, কৃষি জমির মাটি কেটে নেওয়ায় ফলে সারা ধামরাই এখন জলাশয়ে পরিনত হয়েছে। কোন শিল্প কারখানা গড়ে তোলার মত জমি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে।  

 

সর্বাধিক পঠিত