গ্রীষ্মকাল এলেই বাজারে দেখা মেলে সবার প্রিয় ফল লিচুর। মিষ্টি স্বাদ ও রসালো গুণের কারণে এটি অনেকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে লিচু স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে দেখা দেওয়া কিছু রহস্যজনক অসুস্থতার সঙ্গে লিচুর সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।
ভারত ও ভিয়েতনামের কয়েকটি অঞ্চলে লিচুর মৌসুমে শিশুদের মধ্যে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুরা রাতে স্বাভাবিক থাকলেও সকালে খিঁচুনি, অচেতনতা কিংবা আরও জটিল অবস্থায় পড়ে। শুরুতে ভাইরাস সংক্রমণ, কীটনাশকের প্রভাব বা অতিরিক্ত গরম আবহাওয়াকে এর কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হলেও সেগুলোর কোনোটি এককভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পরবর্তীতে গবেষকেরা দেখতে পান, আক্রান্ত শিশুদের রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়, যা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিচুতে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শরীরের গ্লুকোজ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা এবং খালি পেটে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
গবেষণায় এমন তথ্যও পাওয়া গেছে যে, আক্রান্ত অনেক শিশু একসঙ্গে ৩০ থেকে ১০০টি পর্যন্ত লিচু খেয়েছিল। তবে এসব ঘটনা মূলত অপুষ্ট শিশুদের মধ্যেই বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে, প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর পরিচালিত একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় ৪৫টি লিচু খাওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণভাবে লিচু নিরাপদ ও পুষ্টিকর একটি ফল। তবে কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। যেমন—
শিশু অপুষ্টিতে ভুগলে
খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া হলে
রাতের খাবার না খেয়ে ঘুমাতে গেলে
এ ধরনের পরিস্থিতিতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে, যা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে সক্ষম।
সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অনেক এলাকায় এই ধরনের ঘটনার হার কমেছে। বিশেষ করে শিশুদের রাতে পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিত করা এবং লিচু খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তাই লিচু নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
