শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সিংগাইর খাসী-মোরগের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জয়ধ্বনি
daily-fulki

সিংগাইর খাসী-মোরগের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার জয়ধ্বনি

 

মাসুম বাদশাহ, মানিকগঞ্জ: 
বিশ্বকাপের আবহে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছে দেশের গ্রামাঞ্চলও। সেই উন্মাদনারই ব্যতিক্রমী এক আয়োজন দেখা গেল মানিকগঞ্জের সিংগাইরে। খাসী ও মোরগ পুরস্কারকে ঘিরে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো জমজমাট এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। মাঠের লড়াই, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের আবেগে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের খান বানিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত খেলাটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন জামান গ্রুপের কর্ণধার নূর-এ-জামান (পিয়াস) এবং এইচ আর খান গ্রুপের কর্ণধার নাফিজা আঞ্জুমান খান।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে তাহসিন ও ডেঞ্জার ফাহিমের দুটি দৃষ্টিনন্দন গোলে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে রনীর গোলে ব্যবধান কমায় সেলেসাওরা। তবে ম্যাচের শেষদিকে সাগরের করা গোল আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করে।

রোমাঞ্চকর ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে স্কোরবোর্ডে ফলাফল দাঁড়ায়— আর্জেন্টিনা ৩, ব্রাজিল ১।

আর্জেন্টিনা দলের কোচের দায়িত্ব পালন করেন মোসলেহ উদ্দিন সেলিম খান। অন্যদিকে ব্রাজিল দলের কোচ ছিলেন শফিকুল আলম খান। ম্যাচটি পরিচালনা করেন রেফারি রেজাউল করিম রঞ্জু। প্রাণবন্ত ধারাভাষ্যে মাঠ মাতিয়ে রাখেন মানিকগঞ্জ জেলা ফুটবল কল্যাণ সমিতির ধারাভাষ্যকার এইচ আর হানিফ।

খেলা উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছুটে আসেন শত শত ফুটবলপ্রেমী। আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের জার্সিতে সজ্জিত সমর্থকদের পাশাপাশি অন্যান্য দলের সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন উৎসবমুখর পরিবেশে। মাঠজুড়ে ছিল করতালি, উল্লাস আর প্রিয় দলের পক্ষে স্লোগানের ধ্বনি।

ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী ও রানার-আপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন।

চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলকে পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয় একটি সাদা খাসি, আর রানার-আপ ব্রাজিল দলকে দেওয়া হয় একটি কালো খাসি। এছাড়া উভয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় স্মারক মেডেল।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাচসেরা (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) খেলোয়াড়কে পুরস্কার হিসেবে একটি লাল মোরগ প্রদান করা হয়। একইভাবে টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষককেও পুরস্কৃত করা হয় একটি লাল মোরগ দিয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ম্যাচটির জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় ছিল এলাকার মানুষের মিলনমেলা এবং ফুটবলপ্রেমের উদযাপন। বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রীতি ম্যাচ গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্টি করেছে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশ।

খাসী ও মোরগ পুরস্কারকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী ফুটবল লড়াই আবারও প্রমাণ করেছে— ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, ঐক্য, সম্প্রীতি এবং উৎসবের আরেক নাম।

 

সর্বাধিক পঠিত