বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আশুলিয়ায় চুরির অপবাদে মারধর ও অপমানে যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ
daily-fulki

আশুলিয়ায় চুরির অপবাদে মারধর ও অপমানে যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার : আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরির মিথ্যা অপবাদে মারধর, সালিশের নামে অপমান ও নির্যাতনের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আল আমিন (২২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


বুধবার (১০ জুন) দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম। এরআগে সোমবার (গত ৮ জুন) আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়া শরীফ মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


নিহত আল আমিন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার দেওয়ান টারটিয়া গ্রামের আলম সরকারের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া উত্তরপাড়া এলাকার শরীফ মার্কেট সংলগ্ন হাশেম কলোনিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।


নিহতের পরিবার, স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার (৮ জুন) কামাল নামে এক ব্যক্তি নামাজ আদায়ের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ একটি রিকশা গ্যারেজে রেখে যান। পরে সেগুলো খুঁজে না পেয়ে আল আমিনকে সন্দেহ করা হয়। এর জেরে মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে তাকে ভাড়া বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, হাশেম কলোনির সামনের মাঠে বিপ্লব মীর, সুমন, আলম ও তানভীরসহ কয়েকজন আল আমিনকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সরে গেলে পুনরায় তাকে ধরে একটি রিকশা গ্যারেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। 


তাদের দাবি, এ সময় তাকে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে শরীফ মার্কেট এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজে স্থানীয় বাড়িওয়ালা সমিতির কার্যালয়ে সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে আল আমিনের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে দুপুরের দিকে তার বাবা আলম সরকার সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে বাসায় ফেরেন।


পরিবারের দাবি, মারধর, নির্যাতন এবং সালিশের নামে অপমান-অপদস্থ করার ঘটনায় আল আমিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দেন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ফজিলাতুন নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের মা আছুমা বেগম অভিযোগ করেন, তার সামনেই ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নেওয়ার পর আমার সামনেই মারধর করা হয়। আমি বাধা দিলেও কেউ কথা শোনেনি।


নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, চুরির মিথ্যা অপবাদ, সালিশের নামে অপমান এবং শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তাদের ছেলে চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।


স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পরবর্তীতে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি ওই রিকশা গ্যারেজ থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।


এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
 

সর্বাধিক পঠিত