স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করার পর দুই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের কিলঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও ইট দিয়ে আঘাত করে তাদের হেফাজত থেকে রফিকুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে পৌর এলাকার বেদেপল্লির কাঞ্চনপুর মহল্লায় এই ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে রাতেই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন, সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান।
পুলিশ জানায়, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের উদেশ্যে মঙ্গলবার রাত ৮টারদিকে এসআই এস এম শামীম ও এএসআই মশিউর রহমান কাঞ্চনপুর এলাকায় অভিযান চালান। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা সেখানে গিয়ে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পরপরই রফিকুল ইসলামের সহযোগী সাত-আট ব্যক্তি দুই কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলাকারীরা কিলঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও ইট দিয়ে আঘাত করে পুলিশের হেফাজত থেকে রফিকুল ইসলামকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় সরাসরি কয়েকজন অংশ নিলেও রফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ আরও ৩০-৪০ জন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকেও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন। একপর্যায়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রফিকুল ইসলাম কাঞ্চনপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। হামলায় অংশ নেওয়া এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত অধিকাংশ ব্যক্তি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
আহত এসআই এস এম শামীম বলেন, রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তার সহযোগীরা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আমরা সাদা পোশাকে ছিলাম। তবে আমাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগে পুলিশি পোশাক ও ওয়াকিটকি ছিল।
সাভার মডেল থানার ওসি (পরিদর্শক) নুর মোহাম্মদ রাত ৯টায় জানান, আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের এনাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সিভিল পোশাকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তারা মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার শিকার হন।
তিনি বলেন, পোশাক পরা অবস্থায় এসব আসামি ধরা যায় না। তবে থানা পুলিশের একটা ব্যাকআপ তাদের সঙ্গে ছিল। তাই বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে ওই আসামিকে পুলিশ আর আটক করতে পারেনি। তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
