মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
এমপির ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণাও উপেক্ষিত! সিংগাইরে ফসলি জমি মাটি কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন
daily-fulki

এমপির ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণাও উপেক্ষিত! সিংগাইরে ফসলি জমি মাটি কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি :  মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নে তিন ফসলি কৃষিজমির মাটি কাটা, অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা এবং মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় সোনাটেংরা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মানিকনগর-সিরাজপুর সড়কের পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

“চান্দহর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ”-এর ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে মাধবপুর, বাগুলি, সোনাটেংরা, চালিতাপাড়া ও রিফায়েতপুর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক কৃষক, জমির মালিক ও ভুক্তভোগী ব্যক্তি অংশ নেন। কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।


মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন- তারিকুর রহমান আলাল। বক্তব্য দেন মশিউর রহমান দুলাল, ইসমাইল হোসেন, আবু আম্মার লিটন দেওয়ান, ভুক্তভোগী আবিদা সুলতানা, মাওলানা আযাহার, ইদ্রিস আলী, আবুবকর ও আরিফ হোসেনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চান্দহর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসা অব্যাহত থাকায় কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের দাবি, উর্বর টপসয়েল কেটে নেওয়ার ফলে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে।


অন্যদিকে, ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মাদকের সহজলভ্যতায় এলাকার যুবসমাজ ধীরে ধীরে অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “অবৈধ ইটভাটা, মাটি কাটা ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও জনপ্রতিনিধিদের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ বাণিজ্য।”

তারা অবিলম্বে মাদক ব্যবসায়ী, অবৈধ ইটভাটা মালিক এবং ফসলি জমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি চান্দহর ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহার বলেন,      “ফসলি জমির টপসয়েল কাটার বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইনেও এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও অভিযান চালানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এর আগে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানালেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে দাবি করেছেন তারা।

স্থানীয়দের প্রশ্ন- প্রশাসনের অভিযান, জনপ্রতিনিধির কঠোর বার্তা এবং জনগণের প্রতিবাদ সত্ত্বেও কারা এই অবৈধ মাটি কাটা, ইটভাটা ও মাদক ব্যবসার পেছনে রয়েছে? তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে? এখন সেই উত্তর খুঁজছে চান্দহর ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।

সর্বাধিক পঠিত