স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে গিয়ে নতুন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। আগে যেখানে রিচার্জের জন্য ২০ ডিজিটের টোকেন নম্বর ব্যবহার করা হতো, সেখানে এখন অনেক গ্রাহকের মোবাইলে প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর আসছে। দীর্ঘ এই নম্বর খাতায় লিখে মিটারে ডায়াল করতে গিয়ে ভুল করছেন অধিকাংশ গ্রাহক। ফলে টাকা পরিশোধ করেও বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে না পেরে দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা জানান, মোবাইল ব্যাংকিং বা অন্যান্য মাধ্যমে রিচার্জের পর প্রাপ্ত টোকেন নম্বর এত দীর্ঘ যে তা মিটারে প্রবেশ করাতে অনেক সময় লাগছে। সামান্য ভুল হলেই টোকেন গ্রহণ করছে না মিটার। একাধিকবার চেষ্টা করেও অনেকেই রিচার্জ সম্পন্ন করতে পারছেন না।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও টোকেন প্রবেশ করাতে না পারায় অনেক বাসা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী মানুষদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাজধানীর আজিমপুরের বাসিন্দা লিপু বিশ্বাস। রাস্তার পাশের একটি দোকানে দাঁড়িয়ে মুঠোফোন থেকে টোকেন নম্বর খাতায় লিখছিলেন তিনি। বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘২০০ ডিজিট টাইপ করা সম্ভব বলুন? গত চার ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি, প্রতিবারই একটা না একটা সংখ্যা ভুল হচ্ছে। এজন্য খাতায় লিখে নিচ্ছি। বাসায় বিদ্যুৎ নেই, বাচ্চারা কষ্ট পাচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বিদ্যুতের নতুন মূল্য বা ট্যারিফ সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য হালনাগাদের কারণে এই দীর্ঘ টোকেন নম্বরের প্রয়োজন হচ্ছে। নতুন মূল্য সংযোজনের তথ্য মিটারে আপডেট করার জন্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২০০ ডিজিটের বিশেষ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। এই আপডেট সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী রিচার্জে আবার আগের মতো ২০ ডিজিটের স্বাভাবিক টোকেন নম্বর পাওয়া যাবে।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ সমস্যার কোনো বিকল্প সমাধান নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রাহকদের ধৈর্য ধরে প্রথমবার দীর্ঘ টোকেনটি সম্পূর্ণভাবে মিটারে প্রবেশ করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহক পরিচয়ে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি বা ডিপিডিসির কাস্টমার কেয়ারের ১৬১১৬ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ নির্ধারণের কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রথমবার রিচার্জ করলে দ্বিতীয়বার এ সমস্যা থাকবে না। এজন্য প্রথমবার গ্রাহকদের একটু কষ্ট করতে হবে।
এদিকে আকস্মিক এই পরিবর্তনের বিষয়ে আগে থেকে পর্যাপ্ত প্রচারণা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক গ্রাহক। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর উচিত ছিল আগেই বিষয়টি জানিয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো। তাহলে গ্রাহকদের এমন চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো না।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ও সহজ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা ইতি আক্তার বলেন, ‘আগে তো নিজেই রিচার্জ করতে পারতাম। এখন একবার ডায়াল করি আবার ভুল হয়। এই করতে করতে চোখে ধান্দা লেগে গেছে। এতগুলো নম্বর ক্যামনে লিখবো বলেন। কার এত সময় আছে যে আমারে রিচার্জ করে দেবে?’
শনির আখড়া এলাকার বাসিন্দা মুয়াজ্জেম বলেন, ‘নিজে কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে মিটারে টাকা ভরতে পারিনি। পাশের বাসার একজনের পোলা ভার্সিটিতে পড়ে, তারে দিয়া টাকা ভরছি। শুনলাম কারেন্টের দাম বাড়াইছে, তারপরও আবার এই ঝুটকিঝামেলা।’
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, এরকমটা হতে পারে না। নিশ্চই কোনো গোলমাল আছে। বিদ্যুতের গ্রাহকদের সবাই তো আর ওই অর্থে শিক্ষিত না। আবার অনেক বৃদ্ধ গ্রাহক আছেন। এত সংখ্যার ডিজিট লিখতে গেলে তারা বারবার ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। যদি এ ধরনের জটিলতা তৈরি হয় তাহলে এটার সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে স্ক্যানিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে তো হতে পারে না, আমার কাছেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) রবিউল হাসান বলেন, বিদ্যুতের নতুন ট্যারিফ (দাম) নির্ধারণের ফলে ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর আসছে। প্রথমবার গ্রাহকদের ২০০ ডিজিট ডায়াল করতে হবে। পরের ধাপে আর এই বিড়ম্বনা থাকবে না। আগের মতোই স্বাভাবিক হবে।
