শনিবার, ৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
চ্যাম্পিয়ন ভারত, হ্যাটট্রিক শিরোপা পেল না বাংলাদেশ
daily-fulki

চ্যাম্পিয়ন ভারত, হ্যাটট্রিক শিরোপা পেল না বাংলাদেশ


স্টাফ রিপোর্টার : টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে সেই হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার মারিয়া-ঋতুপর্ণাদের। গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার রানার্স-আপ ট্রফি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকল।

গোয়ার ট্রফি নির্ধারণী ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশ করেছিল বেশ সতর্ক এবং রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে। প্রথম পাঁচ মিনিটে নিজেদের জাল আগলে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ ছিল বাঘিনীদের। তবে ম্যাচের ১২তম মিনিটেই লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। বাঁ প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার বাড়ানো দারুণ এক ক্রসে গোলমুখে খুব কাছাকাছি থেকেও পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন শামসুন্নাহার। এর দুই মিনিট পর আবারও সুযোগ নষ্ট করেন তহুরা খাতুন। বক্সের সামনে বল পেয়ে ভারতীয় গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট নিতে দেরি করায় জুলি কিশান এসে বল ক্লিয়ার করে দেন।


ম্যাচের ১৬তম মিনিটে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ভারতও। নির্মলা দেবীর শট বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে এবং ডিফেন্ডার কোহাতি কিসকু বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে বল পান ভারতের আস্তাম ওরাওন। তবে ফাঁকা পোস্ট পেয়েও তাঁর শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ৩৮ মিনিটে মনিষার কল্যাণের একটি বিপজ্জনক শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন মিলি।

ম্যাচের প্রথম ৪০ মিনিটে কোনো দল জালের দেখা না পেলেও ৪২ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙে ভারত। পেয়ারি জাজাকে আটকাতে ডিফেন্ডার সুরভী ছুটে গেলেও তাঁর গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে। গোলকিপার মিলি অনেকটা সামনে এগিয়ে থাকায় বলটি তাঁর মাথার ওপর দিয়ে ভাসতে ভাসতে জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে অবশ্য ভেঙে পড়েনি বাংলাদেশ। মাত্র ৪ মিনিটের ব্যবধানে, প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লাল-সবুজ শিবিরে স্বস্তি ফেরান ঋতুপর্ণা। আনিকার কাছ থেকে বল পেয়ে তহুরা দারুণভাবে পাস বাড়ান ঋতুপর্ণার উদ্দেশে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে এক কোণাকুণি শটে ভারতীয় গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই উইঙ্গার।

বিরতির পর মাঠে ফিরেই চরম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয়ার্থের খেলা শুরুর মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে বসে বাঘিনীরা। ভারতের পেয়ারি জাজার বাড়ানো চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে পাঠান সানফিদা। ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায় বাংলাদেশ। ৫১ মিনিটে ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে আসা বলে ভালো পজিশনে থেকেও শামসুন্নাহার জুনিয়রের নেওয়া হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে একটি বিতর্কের জন্ম হয়। মালভিকার সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে ভারতীয় বক্সের ভেতর পড়ে যান শামসুন্নাহার। বাংলাদেশ দল পেনাল্টির জোরালো আবেদন করলেও রেফারি তাতে সম্পূর্ণ কর্ণপাত করেননি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে দলে গতি বাড়াতে প্রথম পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। আনিকাকে তুলে তিনি মাঠে নামান অভিজ্ঞ মনিকা চাকমাকে।

৬৪তম মিনিটে আবারও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় ভারত। সানফিদার ক্রস থেকে বক্সের ভেতর ফাঁকায় বল পেয়ে ভলি করেছিলেন মনিষা, তবে বল লক্ষ্যে না থাকায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই বাড়ছিল বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা। ডাগআউটে থাকা কোচ বাটলারের চোখেমুখেও তখন চিন্তার স্পষ্ট ছাপ।

ম্যাচে সমতা ফেরানো তো দূরে থাক, উল্টো ৮৩ মিনিটে তৃতীয় গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের এলোমেলো ও ছন্নছাড়া অবস্থার সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ভারতের কম সেরতো গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। এই গোলের সাথেই বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার আশার সলিল সমাধি ঘটে। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় রেফারি বাঁশি বাজাতেই চ্যাম্পিয়নের উল্লাসে মাতে ভারত। আর মাঠ ছাড়তে হয় রানার্স-আপ বাংলাদেশের মেয়েদের।

 

সর্বাধিক পঠিত