বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় ১০ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান সিপিজের
daily-fulki

সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় ১০ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান সিপিজের


স্টাফ রিপোর্টার : গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। গতকাল মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানিয়ে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সংগঠনটি।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, ‘‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মূলত বাংলাদেশের প্রতিটি নতুন সরকারই পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার এক্ষেত্রে ভিন্ন পন্থা অবলম্বনের দাবি করেছিলেন, কিন্তু ১০০ দিন পরেও কার্যকরী অগ্রগতি সীমিত পর্যায়েই রয়ে গেছে।’’


ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট ৪৫
সিপিজে মনে করছে, ১০টি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, জামিন না দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক মামলা দেওয়া, অন্যায় তকমার অবসান ঘটিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছে সংস্থাটি। তারা এক্ষেত্রে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত ও ফারজানা রুপার উদাহরণ টেনেছে।

সিপিজের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, সরকারের উচিত অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ বাতিল করা অথবা সংশোধন করা, ১৮৬০-এর মানহানির বিধান বাতিল করা এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ সংশোধন করা, যাতে এগুলো সাংবাদিকদের আটক করার জন্য ব্যবহার করা না যায়। পাশাপাশি নজরদারির আইনি বিধানগুলো সংস্কারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের বর্তমান পদ্ধতির সংস্কার চেয়েছে সিপিজে। পাশাপাশি হয়রানিমূলক মামলা (স্ট্র্যাটেজিক ল’সুটস অ্যাগেইনস্ট পাবলিক পার্টিসিপেশন– এসএলএপিপি) ঠেকাতে আইনি সুরক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের সাবেক সরকারের এজেন্ট, ভারতবিরোধী, ইসলামবিরোধীর মতো তকমা দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এগুলো সাংবাদিকদের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলছে ও সূত্রদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছে।

এ ছাড়াও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছে সিপিজে। সংস্থাটি বলেছে, স্বচ্ছ, স্বাধীন তদন্তের মধ্য দিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করে রাজনৈতিক দুরভিসন্ধির অবসান ঘটাতে হবে।

বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইন বদলে ফেলার সুপারিশ করেছে সিপিজে। এসব আইনের অধীনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলোও স্বচ্ছ ও স্বাধীন পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি সিপিজে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর সংস্কার চেয়েছে এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অবসান চেয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ ও অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩ এর মতো আইনগুলোও সাংবাদিকদের আটক ও দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে। সরকারকে এসব আইন হয় বদলে ফেলার, না হয় এগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করা হতে পারে। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণ-সংক্রান্ত যেসব পরামর্শ দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত