সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : ঈদের আনন্দ ঘিরে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে গরু বিক্রি করতে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কৃষক মুজাম বিশ্বাস (৭০)।
কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নিখোঁজ হন তিনি। উদ্ধার হলেও এখনো অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন তার মেয়ের জামাই সুরুজ আলী (৩০)। ফলে পরিবারের ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও বিষাদে।
নিখোঁজ মুজাম বিশ্বাস উপজেলার সায়েস্তা ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে একটি ষাঁড় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে যান মুজাম বিশ্বাস। পরে গরুটি ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন তারা। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সেই টাকা রাতেই অন্য একজনের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
গরু বিক্রি শেষে রাত ১টার দিকে লোকাল বাসে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন শ্বশুর-জামাই।
ধারণা করা হচ্ছে, পথিমধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে ফেলে।
বুধবার দুপুরে গাজীপুর এলাকা থেকে সুরুজ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি বৃদ্ধ কৃষক মুজাম বিশ্বাসের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুরুজ আলীর সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও মালামাল লুটে নেয়। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও মুজাম বিশ্বাসের কোনো হদিস না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় সময় কাটছে স্বজনদের।
স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি । যে ঈদকে ঘিরে ছিল আনন্দের প্রস্তুতি, সেই ঈদই এখন তাদের কাছে হয়ে উঠেছে দুঃস্বপ্নের মতো।
পরিবারটি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিখোঁজ মুজাম বিশ্বাসকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সিংগাইর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“নিখোঁজের ঘটনাটি আমাদের থানা এলাকার বাইরে ঘটেছে। তারপরও লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
