মাসুম বাদশাহ, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি কালভার্ট ব্রিজের অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন আনন্দ টিভির প্রতিনিধি মোঃ ওবায়দুর রহমান।
অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার ও তার সহযোগীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের উলাইল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানা যায়, নির্মাণাধীন একটি কালভার্ট ব্রিজে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজ হচ্ছে-এমন তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান। সেখানে গিয়ে তিনি ব্রিজের একটি অংশ ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখতে পান এবং তা ভিডিও ধারণ করেন। পরে সংশ্লিষ্ট এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলে চলে যাওয়ার সময় ঠিকাদার মোঃ সোহেলসহ কয়েকজন তার পথরোধ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে কাঠের বাটাম, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
এ সময় হামলাকারীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার একপর্যায়ে তার কাছে থাকা কোরবানির গরু কেনার জন্য বহন করা নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি ক্যানন ব্র্যান্ডের ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় তারা সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত সোহেল টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর সদরের রাজা মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
আহত সাংবাদিক ওবায়দুর রহমান মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাংগালা গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন আনন্দ টিভির ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ঠিকাদার সোহেলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে মারধরের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বুধবার (২৬ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
