ফুলকি ডেস্ক : কোরবানি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় আমল। এ ইবাদত পালনে পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়তে সুস্পষ্ট কিছু নির্দেশনা রয়েছে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানির পশু নির্বাচন করতে হলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।
- ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশু হতে হবে গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সুরা হজে ‘বাহিমাতুল আনআম’ বা গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুর কথা উল্লেখ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কোরবানির জন্য বৈধ। হাঁস, মুরগি, হরিণ বা অন্য কোনো বন্য প্রাণী কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। (সুরা হজ: ৩৪)
- কোরবানির পশুর বয়স পূর্ণ হওয়াও বাধ্যতামূলক। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার বয়স কমপক্ষে এক বছর হতে হবে। তবে এমন ভেড়া বা দুম্বা, যার বয়স ছয় মাস হলেও দেখতে এক বছরের মতো মনে হয়, তা কোরবানি করা বৈধ। গরু ও মহিষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স দুই বছর এবং উটের বয়স পাঁচ বছর হওয়া আবশ্যক। (কাজিখান: ৩/৩৪৮)
- কোরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। এমন দুর্বল পশু, যা হাঁটতে পারে না, অধিকাংশ দাঁত পড়ে গেছে, শিং গোড়া থেকে ভেঙে গেছে বা কান ও লেজ অর্ধেকের বেশি কাটা—এসব পশু দিয়ে কোরবানি সহিহ হবে না বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। (জামে তিরমিজি: ১৪৯৭-১৪৯৮)
- যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রেও শরিয়ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। তবে প্রত্যেকের নিয়ত ইবাদতের হতে হবে এবং কোরবানির অর্থ হালাল উপার্জনের হওয়া জরুরি। শরিকদের কারও উদ্দেশ্য যদি শুধু গোশত খাওয়া বা ইবাদতবহির্ভূত কিছু হয়, তাহলে পুরো কোরবানি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ইসলামী শিক্ষায় কোরবানির পশুর সুস্থতা ও সৌন্দর্যের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) উত্তম ও সুন্দর পশু কোরবানি করতেন।