রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সিংগাইরে বাবার বিক্রি হওয়া জমি ফের দখলে খুঁটি বসালেন ছেলেরা
daily-fulki

সিংগাইরে বাবার বিক্রি হওয়া জমি ফের দখলে খুঁটি বসালেন ছেলেরা


মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের চর আটিপাড়া গ্রামে বাবার বিক্রি করে যাওয়া জমি পুনর্দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ছেলেদের বিরুদ্ধে। প্রায় ২৬ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা ফসলি জমিতে সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে দখল নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। 


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শাহ আলম শনিবার (২৩ মে) সিংগাইর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রামের মৃত শাহজাহান মাদবরের ছেলে মিজানুর রহমান (৪৫), সাঈদ (৫০), ওবায়দুল (৪৮), মৃত আকু মাদবরের ছেলে মফি মাদবর (৭৫), মফি মাদবরের ছেলে সাইফুল (৪৮), রিপন (৪৫) এবং সাইফুলের ছেলে জিহাদ (২২)।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে মৃত শাহজাহান মাদবর ভুক্তভোগীর বাবা মৃত মোতালেবের কাছে তিন বিঘা জমি বিক্রি করেন। পুরো টাকা বুঝে নিয়ে জমির দখলও বুঝিয়ে দেন। পরে দুই বিঘা জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেও এক বিঘা জমি কাগজপত্র জটিলতার কারণে রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে প্রায় ১২ বছর আগে শাহজাহান মারা গেলে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, শাহজাহানের ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্র ঠিক করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে নানা টালবাহানা শুরু করে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি।


অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২১ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে। এসময় তারা জমির ফসল নষ্ট করে মাঝ বরাবর সিমেন্টের খুঁটি পুঁতে দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার সবজি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহ আলম।


স্থানীয় বাসিন্দা লাল বুরু বলেন, “শাহজাহান জীবিত থাকতেই মোতালেবের কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন। এখন তার ছেলেরা অন্যায়ভাবে সেই জমি দখল নিতে চাইছে।”


স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন (৭৭) বলেন,
“১৯৯০ সালে শাহজাহান আমার কাছেও জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু পরে জায়গা বুঝিয়ে দিতে না পেরে টাকা ফেরত দেন। বিষয়টি এলাকায় সবাই জানে।”


ভুক্তভোগী শাহ আলম বলেন,“মিজানের নেতৃত্বে বিবাদীরা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ ২২ মে সকালে আমাকে মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, “ওটা আমাদের নিজস্ব সম্পত্তি। জমিতে আইল না থাকায় শাহ আলমের দুই বিঘা রেখে বাকি জায়গায় চলাচলের সুবিধার জন্য খুঁটি গেড়েছি। ফসলের ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষতিপূরণ দেব।”


এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার এসআই ও অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

সর্বাধিক পঠিত