শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
ধামরাইয়ে মামলা হালকা করে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে
daily-fulki

ধামরাইয়ে মামলা হালকা করে দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে


ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাই থানার এসআই কাজী রেজাউল হকের বিরুদ্ধে মামলার ধারা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে জিয়া পরিষদের নেতা মনির হোসেনের বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। কিন্তু ঘুষ নেওয়ার পরও তাকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের সক্রীয় নেতা বানিয়ে গত চার মাসে আগে আদালতে প্রেরণ করা হয়। ৪ মাস ১১দিন হাজত বাস করে জামিনে আসেন মনির। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ওই মামলায় হাজিরাও দিয়েছেন তিনি।

মনিরের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার পরও আমাকে জেল খাটতে হয়েছে শুধুমাত্র দাবিকৃত টাকা না দিতে পেরে। তিনি সেই টাকা ফেরতের দাবিসহ তদন্ত সাপেক্ষে এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন মনির হোসেন। মনির হোসেন সূয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের চান মিয়ার ছেলে এবং জিয়া পরিষদ ধামরাই উপজেলা শাখার অনুমোদিত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। সেই কমিটি অনুমোদনের জন্য ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল মান্নান সুপারিশ করেছিলেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, মনির হোসেনকে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়ি থেকে আটক করে ধামরাই থানার এসআই কাজী রেজাইল হক। আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার শর্তে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি এসআই কাজী রেজাউল হক। দাবিকৃত টাকা না দিতে পারায় তাকে নিয়ে আসা হয় থানায়। রাখা হয় গারদে।

এদিকে ওইদিন রাতে কাজী রেজাউল হক দেন-দরবার চালায় মনিরের বাবা চান মিয়ার সাথে। মামলার ধারা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে মনিরের বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে এসআই রেজাউল। নিরুপায় হয়ে এসআই রেজাউলকে ৫০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয় মনিরের বাবা। কিন্তু ধারা কমিয়ে দেওয়াতো দুরের কথা তাকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেরবিপক্ষে আসামী দেখিয়ে পেন্ডিং মামলায় (মামলা নং ২৫, তারিখ ২৯.১০. ২০২৪) আদালতে চালান করে। এ মামলায় মনির হোসেন চার মাস ১১দিন হাজাত বাস করে গত ১১ মে জামিনে আসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই মামলায় হাজিরাও দিয়েছেন তিনি।

ধামরাই পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আনোয়ার জাহিদ তালুকদার জানান, মনির হোসেন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছিলাম কিন্তু এসআই কাজী রেজাউল হক কথা শুনেননি।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অন্যদের কাছে সুবিধা নিয়ে মনিরকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী বানিয়ে মামলায় আসামি করেছেন এসআই কাজী রেজাউল হক। তারা এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে রেজাউলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন।  

মনির হোসেনের বাবা চান মিয়া বলেন, মামলার ধারা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে এসআই কাজী রেজাউল হক ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ঘুষ নেওয়ার পর আমাদের এমন ভয় দেখানো হয়েছে যে ঘুষের কথা কাউকে জানালে পরবর্তীতে আরও মামলায় ফেসিয়ে দেওয়া হবে। এখনও ভয়ে আছি। কখন আবার কোন মামলায় ঢুকিয়ে দেন তিনি।  

এসআই কাজী রেজাউল হক ঘুষ নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মনির হোসেন আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা। তবে তিনি কোন প্রমান দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান বলেন, ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে ঘটনা সত্য হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। 
 

সর্বাধিক পঠিত