ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ে জমির শ্রেণির পরিবর্তন করে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অপরাধে শুক্রবার (২২ মে) স্থানীয় এমপি’র নির্দেশে মনিরুজ্জামান মনির নামে এক মাটি ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মনিরুজ্জামান মনিরসহ, মনিরের মামা এমএলই নামক ইটভাটার মালিক ও কুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বড় চন্দ্রাইল গ্রামের লুৎফর রহমান, চেয়ারম্যানের ছেলে আলিমুল ইসলাম রিপন, সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের কুটুরিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান, লাড়ুয়াকুন্ড গ্রামের শুকুর আলীসহ অজ্ঞাত তিনজনসহ নয়জনের নামে মামলা করেছে।
আটক মনিরুজ্জামান মনির কুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছোট চন্দ্রাইল গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে। মনিরকে শনিবার (২৩ মে) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ে দেড় শতাধিক অবৈধ ইটভাটাসহ প্রায় দুইশত ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটায় এক যুগ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শতশত একর ফসলি জমির মাটি গভীর গর্ত করে কেটে নেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে এলাকাবাসীসহ ভুক্তভোগীরা গত কয়েক বছর ধরে বিগত সরকারের আমালে এমপি, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসছিলেন। এরমধ্যে গত তিন মাস ধরে উপজেলা প্রশাসন রাতের বেলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০টি ভেকু জব্দ করে। এরপর শুধুমাত্র জরিমানা আদায় করে ভেকু ফেরত দিয়ে আসছে উপজেলা প্রশাসন।
তবে নিয়মিত কোন মামলা করা হয়নি। আর মাটি কাটাও বন্ধ হয়নি। শুক্রবার স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের নির্দেশে মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় পুলিশ। শুক্রবার রাতে কুল্লা ইউনিয়নের বারিল্যা এলাকায় ফসলি জমির মাটি কাটাকালে মনিরুজ্জামান মনিরকে আটক করার পর নিয়মিত মামলা করেছে। এ সময় মাটি বহনে ব্যবহৃত দুটি ড্রাম্প ট্রাক জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, বিগত সরকারের আমলে শতশত একর ফসলি জমির মাটি কেটে সারা ধামরাইকে জলাশয়ে পরিনত করেছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমির পরিমান কমে খাদ্য ঘাটতি দেখা দেবে। এখন থেকে আর কোন মাটি কাটতে দেওয়া হবে না।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হুদা খান বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর পেনাল কোড ৩৭৯ ধারায় অপরাধ করেছে মর্মে মামলা করা হয় মনিরুজ্জামানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে।
