স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এবং অস্ট্রেলিয়ার চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটি (সিএসইউ) এর যৌথ উদ্যোগে জলবায় সহনশীল গবাদি পশুর খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া যৌথ উদ্যোগে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্সের অর্থায়নে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে “অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ রিসার্চ শোকেস” শীর্ষক এ সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “জলবায়ু সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা-ব্যবহারিক সমাধান ও অংশীদারিত্ব”।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সেমিনারটি শুরু হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিএলআরআই-এর পরিচালক (গবেষণা) ড. জিল্লুর রহমান এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গুলবালি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ক্যামেরন ক্লার্ক।
এরপর “অস্ট্রেলিয়া- বাংলাদেশ কৃষি অংশীদারিত্ব” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাই কমিশনার ক্লিনটন পবকি এবং জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একই বিষয়ের উপরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (এসিআইএআর) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. স্টিফেন ক্রিম্প।
সেমিনারে পরিবেশবান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ী গরুর মাংস উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল লো-কস্ট বিফ প্রোডাকশন- প্র্যাকটিক্যাল সলুশনস অ্যান্ড পার্টনারশিপ” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।
“ফিড ফার্স্ট সিস্টেমস, রিডিউসিং ফিড কস্ট থ্রু দি ম্যানেজমেন্ট অব নেপিয়ার গ্রাস” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো (অ্যাকাডেমিক স্টাফ) ড. রফিকুল ইসলাম এবং চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও গুলবালি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ড. ক্যামেরন ক্লার্ক।
এছাড়াও ওয়ান হেলথ গবেষণা, গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের ক্ষুদ্র খামারিদের খাদ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ের উপরেও গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প সমন্বয়কারী ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা ক্রমাগত বাড়লেও উচ্চ উৎপাদন ব্যয় ও খাদ্য সংকটের কারণে প্রাণিজ প্রোটিন এবং গরুর মাংস ক্রমান্বয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে দেখান, দেশে গরুর মাংসের খুচরা মূল্য ২০১৫ সালের তুলনায় প্রায় ২.৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রাণিজ আমিষ গ্রহণের হার বাড়লেও উচ্চ মূল্যের কারণে গরুর মাংস গ্রহণের পরিমাণ দিন দিন কমছে। গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চ খাদ্য ব্যয়, নিম্নমানের রাফেজ এবং অতিরিক্ত কনসেনট্রেট ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো গরুর মাংসের মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, গবেষণায় দেখা গেছে উন্নত জাতের নেপিয়ার ঘাস, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, টিএমআর প্র্রযুক্তি এবং খামার বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন ব্যয় ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এ প্রেক্ষিতে চলমান গবেষণার ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবন্ধে প্রাণিসম্পদ খাতে গ্রীনহাউস গ্যাস ও মিথেন নিঃসরণ হ্রাসে করণীয় বিষয়ও তুলে ধরা হয়। গবেষকদের মতে, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ ঘাস উৎপাদন বৃদ্ধি, বায়োগ্যাস প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্বন ব্যালেন্সিং পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব প্রাণিসম্পদ খাত গড়ে তোলা সম্ভব।
মূল প্রবন্ধের উপরে উন্মুক্ত আলোচনায় সেমিনারে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই ও স্বল্প খরচে প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্বে নারী ও পুরুষ ক্ষুদ্র খামারিরা মাঠ পর্যায়ের বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। ভবিষ্যৎ গবেষণা সহযোগিতা জোরদারে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের লক্ষ্যে উন্মুক্ত আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে উপস্থিত সদস্যগণ এসময় জলবায়ু সহনশীল কৃষি, টেকসই প্রাণিসম্পদ উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব স্বল্প ব্যয়ী গরুর মাংস উৎপাদন, ক্ষুদ্র কৃষকদের প্রাণিখাদ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির উন্নয়ন, ঘাস চাষের মাধ্যমে খাদ্য খরচ কমানো ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের উপরে গুরুত্ব আরোপের জন্য সরকারি নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সেমিনারে ্একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, প্রাণিসম্পদ খাতের পেশাজীবী, উন্নয়ন সহযোগী, বিএলআরআই এর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং খামারিরা অংশ নেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন,বিশ্বের সবচে বড় সমস্যা হচ্ছে কোয়ালিটি ফুড। পশুর নিরাপদ খাদ্য গড়ে তুলতে ঘাসের উন্নয়ন করা হয়েছে। খড়ায় সহিঞ্চ এ ঘাস দেশে বিদেশে উপকারে আসবে। গবেষনার মাধ্যমে উৎপাদিত নেপিয়ার ঘাস থেকে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশ বাসীকে অর্গানিক মাংস উপহার দিতে চাই। অর্গানিক ফুড,ঘাসে হাইব্রীড নেই। তিনি বলেন,অনাবৃষ্টি অতিবৃষ্টির এ বিরূপ পরিবেশের জন্য আমরা দায়ি। আমরা মানুষ পরিবেশের অনেক ক্ষতি করছি। আমাদের দেশে অনেক আলো বাতাস রয়েছে। যা বিশ্বের অন্য কোন দেশে নেই। আমাদের দেশে বার মাস ফসল ফলে। অথচ আমরা গরীব। পৃথিবীর যে সব দেশ ৬ মাস বরফে ঢাকা থাকে সে সব দেশ উন্নত।
