বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে রাজউকের অনুমোদন না থাকায় ৫টি ভবনের বর্ধিতাংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে
daily-fulki

সাভারে রাজউকের অনুমোদন না থাকায় ৫টি ভবনের বর্ধিতাংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে


স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদন না থাকার অভিযোগে এবং নকশা বহির্ভূত নিমাণ কাজ পরিচালনা করায় বুধবার (২০ মে)  দুপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৫টি ভবনে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।  এসময় বর্ধিত অংশ ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।


প্লান অনুমোদন থাকার পরও রাজউক কেন ভবন ভেঙ্গে দিচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো: আলম মিয়া বলেন, পৌরসভার অনুমোদিত প্লান অনুযায়ী ভবন নির্মাণ না করলে রাজউকও ব্যবস্থা নিতে পারে। আর অনুমোদিত প্লান অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণ করলে রাজউকের কোন এখতিয়ার নেই কারও বাড়ি ভাঙ্গার। তিনি আরও বলেন, পৌর আইন ২০০৯ অনুযায়ী পৌরসভাগুলো ভবন নির্মাণের প্লান অনুমোদন দিচ্ছে।    


সরেজমিন জানা যায়, সাভার সদর ইউনিয়নের চাপাইন, পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের ডগরমোড়ার আব্দুল আউয়ালের বাড়ি, সিআরপি রোড এলাকার রফিকুল ইসলাম কোম্পানীর বাড়ীতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। রাজউকের পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সবুজ হাসান খান এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানের সময় অধিকাংশ ভবন মালিকরা পালিয়ে যায়। 


রফিকুল ইসলামের বাড়ীর কেয়ারটেকার রনি মিয়া জানান, আমাদের বাড়ী নির্মাণে সাভার পৌরসভার অনুমোদন থাকলেও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কোন অনুমোদন নেই। সে জন্য দুপুরে রাজউক কর্তৃপক্ষ ভবনের সামনের দিকের আংশিক এবং ভবনের উপরে মাঝখানে বড় একটি গর্তের ন্যায় ছিদ্র করে দেয় তারা। 


নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ হাসান খান বলেন, ভবন মালিকগণ রাজউকের আওতাধীন এলাকায় রাজউকের অনুমোদন ব্যতীত ভবন নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছেন। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণে অনুমোদন দিলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজউকের অনুমোদন লাগবেই। ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ধারা ৩(বি )এবং আইনের ধারা-১২ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই আজ (বুধবার) বর্ধিত অংশ ভেঙে দেয়া, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ বাড়ি নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজউকের অনুমোদন নিয়ে বাড়ি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন রাজউক কর্তৃপক্ষ।


এদিকে স্থানীয় একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি ও একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজউকের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিগণ ইতিপূর্বে এমন অভিযান পরিচালনা করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। কিন্ত পরবর্তীতে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ভবনগুলোতে নির্মাণ কাজের অলিখিত অনুমতি দেয়া হয়। 


এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে মাসিক উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে রাজউক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযানকালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ  (রাজউক)-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সাভার মডেল থানার (এসআই) নূরুল আমিনসহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। 
 

সর্বাধিক পঠিত