সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত মো. মোস্তফা (৪০) এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। শরীরের ক্ষত এখনো শুকায়নি, হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি।
এরই মধ্যে মামলার অধিকাংশ আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে বাদীকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে মামলার বাদী আহম্মদ হোসেন (৫৩) সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, “আমার ভাই এখনো হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। অথচ আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আমাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন চরম আতঙ্কে আছি।”
ভুক্তভোগী আহম্মদ হোসেন উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের উত্তর পাড়িল গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১১ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পূর্ব শত্রুতার জেরে আহম্মদের ছোট ভাই মোস্তফার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষরা। বাড়ির সামনে তাকে এলোপাতাড়ি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার নেতৃত্ব দেন দেলোয়ার (৪২), ফয়সাল (৩২) ও আব্দুল হক (৫৫)সহ ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। এ সময় মোস্তফার চিৎকার শুনে তার স্ত্রী রহিমা খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। হামলাকারীরা তার গলায় থাকা প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় মোস্তফাকে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার বাদী আহম্মদ আরও জানান, সম্প্রতি বলধারা একের মোড় এলাকায় তাকে একা পেয়ে আসামিরা প্রকাশ্যে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এতে তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে সিংগাইর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মোক্তার হোসেন জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে রফিক নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেলোয়ারের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ারসহ অন্যান্য এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার এসআই মো. ছালামত হোসেন বলেন, “মামলার ১ থেকে ৩ নম্বর আসামি ছাড়া বাকি আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। জামিন না নেয়া আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।
এছাড়া বাদীকে হুমকির বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
