শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সবজির দাম চড়া, ডিম পেঁয়াজেও অস্বস্তি
daily-fulki

সবজির দাম চড়া, ডিম পেঁয়াজেও অস্বস্তি


স্টাফ রিপোর্টার : বাজারে যখন সব ধরনের সবজির দাম থাকে চড়া তখনো পেঁপের দাম থাকে সবচেয়ে কম। অথচ এখন সেই পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বেগুন, করলা, বরবটি থেকে কচুমুখী সব সবজির দামই এখন বেশ চড়া। সেই সঙ্গে ডিম, পেঁয়াজেও স্বস্তি নেই। আর সরকার নির্ধারিত দরে বাজারে ভোজ্যতেল না পাওয়ার ভোগান্তি তো রয়েছেই। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ঘুরে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় উত্পাদনও সীমিত। ফলে দাম বাড়তি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, কচুমুখী ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শশা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


তুরাগ এলাকার নতুন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া, এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় উত্পাদনও তুলনামূলক কম। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির দাম বেশি বলে তিনি জানান।

রাজধানীর বাজারে বর্তমানে দেশি ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। আবার পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজিতেও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।


নতুন বাজারের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

এদিকে সবজির চড়া দামের কারণে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি রংয়ের ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন। রাজধানীর পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আরো বেশি দামে ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে মুরগির দামে হেরফের হয়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। মাঝারি মানের চাল প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, এক মাসের ব্যবধানে মাঝারি চালের দাম প্রায় ৪ শতাংশ এবং মোটা চালের দাম ৯.৫২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

স্বস্তি নেই ভোজ্যতেলের বাজারে। সরকার দর নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন। বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ১৯২ থেকে ১৯৫ টাকা এবং পাম অয়েল ১৭৮ থেকে ১৮০ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ১৮০ টাকা এবং খোলা পাম অয়েলের দাম ১৬৬ টাকা নির্ধারণ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

 

সর্বাধিক পঠিত