স্টাফ রিপোর্টার : জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যেকোনো দিন রায় ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।
আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক, পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় মামলার চূড়ান্ত পর্যায়ের বিচারকাজ। পরে রায় অপেক্ষমাণ রেখে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে প্রসিকিউশন থেকে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহমেদ। হাসানুল হক ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের দাবি, এ মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তিনি অস্বীকার করেননি। এ ছাড়া প্রসিকিউশন উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ যথাযথভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করা হয়েছে।
আর ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী দাবি করেছেন, জামায়াত-শিবিরের বিরোধিতা করার কারণেই এই মামলায় হাসানুল হক ইনুকে আসামি করা হয়েছে।
কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছিলেন ইনু। আওয়ামী লীগ সরকার বা কাউকে সমর্থন করে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। মামলার অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত। প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। রায়ে তিনি খালাস পাবেন বলেই আশা মনসুরুল হক চৌধুরীর।
উল্লেখ্য, এ মামলায় হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৬ জনকে হত্যাসহ অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ে উসকানি, ষড়যন্ত্র, আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও নিপীড়নমূলক কৌশলে সমর্থনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
