বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
কোরবানির দিনগুলোতে হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে কি
daily-fulki

কোরবানির দিনগুলোতে হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে কি

ঈদুল আজহা এলেই মুসলিম সমাজে কোরবানিকে ঘিরে তৈরি হয় ধর্মীয় আবহ, উৎসবের আমেজ ও নানা ধরনের আলোচনা। এ সময় কোরবানির পশু কেনা, জবাই ও গোশত বণ্টনের পাশাপাশি অনেকের মনেই বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে গ্রামবাংলায় বা সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে, কোরবানির দিনগুলোতে নাকি হাঁস-মুরগি বা অন্য কোনো ছোট প্রাণী জবাই করা যায় না। কেউ কেউ মনে করেন, এসব দিন শুধু গরু, ছাগল, ভেড়া বা উটের মতো কোরবানিযোগ্য পশুই জবাই করা বৈধ, অন্য কোনো হালাল প্রাণী জবাই করা ঠিক নয়।

আবার অনেকে পারিবারিক রান্না বা অতিথি আপ্যায়নের প্রয়োজনে হাঁস-মুরগি জবাই করতে গেলেও দ্বিধায় পড়ে যান, এতে কোনো গোনাহ হবে কি না, অথবা কোরবানির আদবের পরিপন্থী হবে কি না। সামাজিকভাবে প্রচলিত এমন ধারণা ও বিভ্রান্তির কারণে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট শরয়ি ব্যাখ্যা জানা জরুরি।

ফক্বিহরা বলেন, কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, কোরবানি যেহেতু চার পা বিশিষ্ট প্রাণী দিয়ে করতে হয়; দু’পা বিশিষ্ট প্রাণী দ্বারা কোরবানি করা যায় না, সুতরাং এ দিনে দুই পা বিশিষ্ট প্রাণী জবেহও করা যাবে না। আসলে অজ্ঞতার কারণে এ ধরনের অমূলক ধারণার সৃষ্টি হয় এবং সমাজে এগুলোর প্রচলন হয়ে থাকে।

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, কিছু কিছু মানুষ মনে করে, ‘ঈদের দিন বা কোরবানির সময়গুলো হাস-মুরগি বা দু’পা বিশিষ্ট (খাওয়ার জন্য হালাল) কোনো প্রাণী জবেহ করা যাবে না’— এটি একটি অমূলক ধারণা, এর কোনো ভিত্তি নেই। তাই সাধারণ খাবারের জন্য জবাই করাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে, কোরবানির নিয়তে জবাই করা যাবে না।

কোন কোন পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে?

উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। এসব গৃহপালিত পশু ছাড়া অন্যান্য পশু যেমন হরিণ, বন্যগরু ইত্যাদি দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। (ফাতাওয়া কাজীখান: ৩/৩৪৮, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৫)

উল্লেখ্য, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা কোরবানি দেয় না, তাদের ব্যাপারে হাদিস শরিফে কঠোর বার্তা এসেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য আছে তবুও সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)

 

সর্বাধিক পঠিত