বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আসছে ‘ই-লোন’ সেবা, ঘরে বসেই মিলবে ব্যাংক ঋণ
daily-fulki

আসছে ‘ই-লোন’ সেবা, ঘরে বসেই মিলবে ব্যাংক ঋণ


স্টাফ রিপোর্টার : দেশে ক্যাশলেস সমাজ বিনির্মাণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে বাণিজ্যিকভাবে ‘ই-ঋণ’ বা ডিজিটাল ক্ষুদ্র ঋণ চালুর নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলো মোবাইল অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিতরণযোগ্য এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর।

সোমবার (১১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার সূত্রে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কের দ্রুত বিস্তারে ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতায় এখন গ্রাহকদের মাঝে ‘ই-ঋণ’ গ্রহণের চাহিদা তুঙ্গে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপ, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে দেওয়া এই ঋণ প্রান্তিক মানুষকে ব্যাংকিং সেবায় যুক্ত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। মূলত ক্যাশলেস সমাজ বিনির্মাণ এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবায় জনগণকে অভ্যস্ত করতেই ‘ই-ঋণ’ চালুর এই গতিশীল পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ই-ঋণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তফসিলি ব্যাংক কর্তৃক নতুন সেবা হিসেবে ‘ই-ঋণ’ প্রচলনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিচের বিষয়গুলো অনুসরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে-

ঋণের সীমা ও যোগ্যতা

নতুন এই নীতিমালার আওতায় একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট কোনো ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যনন্ত ‘ই-ঋণ’ নিতে পারবেন। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল অ্যাপস, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) বা ই-ওয়ালেট ব্যবহার করে এই ঋণ গ্রহণ করা যাবে। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য গ্রাহক সর্বোচ্চ ১২ মাস সময় পাবেন।


সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ই-ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে ঋণ মঞ্জুরি ও আদায় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি হতে হবে ‘এন্ড-টু-এন্ড’ ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে হাতে-কলমে স্বাক্ষরের কোনো প্রয়োজন হবে না। পরিবর্তে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক তথ্যের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে ডিজিটাল মাধ্যমেই সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (২এফএ) নিশ্চিত করতে হবে।

সুদহার ও চার্জ

সাধারণ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ করবে। তবে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় এই ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ। ই-ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক বা ব্যাংকের ওপর সিআইবি অনুসন্ধান বাবদ কোনো চার্জ বা মাশুল প্রযোজ্য হবে না। তবে কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা তথ্য গোপন করে ঋণ নিলে এবং পরবর্তীতে সিআইবি রিপোর্টে তা ধরা পড়লে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই ঋণ সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নিরাপত্তা ও ডেটা সংরক্ষণ

গ্রাহকের তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এবং ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন-২০২৬ যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের সমস্ত তথ্য ও ডেটা বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউজে সংরক্ষণ করতে হবে।

বাণিজ্যিক যাত্রা ও পাইলটিং

যেকোনো ব্যাংক বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করার আগে কমপক্ষে ৬ মাস পরীক্ষামূলক বা ‘পাইলটিং’ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাইলটিংয়ের ইতিবাচক ফলাফল ও মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে এই সেবা চালু করা যাবে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

এটি ব্যাংক-কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার আওতায় জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত