স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীম হোসেনের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিযানের মূল টার্গেট শামীম হোসেন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় অবস্থিত শামীমের গ্যারেজে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটককৃতরা হলেন-সুমন, জাহিদ ও সবুজ। অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন র্যাব-৪ সাভার ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার শাহীনুর কবির।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির পর শামীম হোসেনের আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এসময় শামীমকে পাওয়া না গেলেও তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, শামীম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাজাশনসহ সাভারের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধচক্র সক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শামীমের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে শামীম তার মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। ফলে বহুবার অভিযোগ উঠলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
এরআগেও গত ১৩ এপ্রিল একই গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে প্রায় সোয়া কোটি টাকা মূল্যের হেরোইনসহ হৃদয় নামে এক যুবককে আটক করেছিল র্যাব।
তবে ওই ঘটনার পরদিন ১৪ এপ্রিল হৃদয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করা হয়, হৃদয়কে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে এবং এর পেছনে শামীম হোসেন জড়িত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শামীমের বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
র্যাব জানিয়েছে, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
