রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অটো-রিকশা চালকদের চাঁদাবাজীর অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ
daily-fulki

সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অটো-রিকশা চালকদের চাঁদাবাজীর অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ


স্টাফ রিপোর্টার : সাভারে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অব্যাহত চাঁদাবাজি ও হয়রানির প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশা চালকরা।


শনিবার (৯ মে) দুপুরে সাভারে পাকিজা মোড় এলাকায় শহীদ ইয়ামিন চত্ত্বরে এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।


সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার বেলা ১২টারদিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ’ অটোরিকশা চালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টাব্যাপী (বেলা ১২টা থেকে ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত) এই অবরোধ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।


বিক্ষুব্ধ অটোরিকশা চালক নাসির উদ্দিন, ইউনুস আলী প্রামাণিক, সুলতান মিয়াসহ অনেকের দাবি, মহাসড়কে রিকশা ওঠানো নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে তারা চলাচল করতে বাধ্য হন। কিন্তু হাইওয়ে পুলিশ ও তাদের সোর্সরা প্রতিনিয়ত চালকদের আটকে ২৬শ’ করে টাকা নেয়। এই টাকার কোন রশিদও দেয় না। সারাদিন রোদের মধ্যে রিকশা চালিয়ে ২৬শ’ টাকা ইনকাম করতে পারি না। রিকশা আটকের পর দেখা যায় ধার দেনা করে টাকা এনে ছাড়িয়া নিতে হয়। আবার পরদিন একই কায়দায় তারা রিকশা আটক করে। পুনরায় টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়। আমরা হাইওয়ে পুলিশের এই চাঁদাবাজি থেকে পরিত্রাণ চাই। সরকার আমাদের রিকশা চালাতে দিবে না তাহলে রিকশার কারখানা ও গ্যারেজগুলো বন্ধ করে দিক। আমাদের কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করে দেয়া হোক যেন পরিবার নিয়ে দুমুঠো খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারি।


বিক্ষুব্ধ চালকদের  মুখ থেকে বলতে শোনা গেছে, “দিনভর যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়।”


এদিকে, অবরোধের ফলে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে গেন্ডা এবং অন্যদিকে গাবতলীমুখী গাড়ির দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়। তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলো  যানজটে আটকে থাকে।


পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন আন্দোলনরত রিকশাচালকদের বলেন, হাইওয়ে পুলিশের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের একটা ব্যবস্থা করা হবে। পরে রিকশাচালকরা পুলিশের এই আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেয়।


চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান বলেন, হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইক এবং সব ধরনের তিন চাকা বিশিষ্ট যানবাহন চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চালকদের আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চালকদের পক্ষ থেকে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে সেটি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এগুলো কোনো ব্যক্তিগত চাঁদা নয় বরং আইনি প্রক্রিয়া।


অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বা কাগজ থাকলে কেস স্লিপ দিয়ে পরে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই রিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা সঠিক কাগজ না থাকায় তৎক্ষণাৎ মামলা দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩৯ ধারায় ২৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ২৬০০ টাকা জমা দেওয়ার পর গাড়ি ছাড়ার বিধান রয়েছে।

 

সর্বাধিক পঠিত