স্টাফ রিপোর্টার : সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের মুরগির বাজারে ‘কুলি বিট’-এর নামে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে ধর্মঘট করছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডসহ সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন বাজারে পাইকাররা মুরগী সরবরাহ ও মুরগী ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে কুলি বিটের নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আজ শনিবারও (৯ মে) সাভার মডেল থানায় গিয়েছিলেন তারা। আগামীকাল রোববার (১০ মে) সাভার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যাবেন বলে জানিয়েছেন মুরগী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, সাভার পৌর এলাকায় ৪ শতাধিক মুরগী ব্যবসায়ী রয়েছেন। তারা গত ৩দিন ধরে দোকান বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। দোকান বন্ধ থাকায় খুচরা বিক্রেতারও রয়েছেন নানাবিধ সমস্যায়। মুরগী বিক্রেতাদের দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, কিস্তি পরিশোধের মানসিক চাপে রয়েছেন তারা। এসবের পরেও তারা বিভিন্ন দপ্তরে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির বন্ধের দাবি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এখনও প্রতিকারের কোন সম্ভবনাই দেখছেন না তারা।
এ বিষয়ে মুরগী ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে দেখা করে খাজনা আদায়ের নামে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবিতে অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আজ শনিবার (৯ মে) মুরগী ব্যবসায়ীরা সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও গিয়েছিলেন।
এছাড়া গত বৃহস্পতিবারও সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সম্প্রতি সাভার পৌরসভার রেডিও কলোনি হতে ব্যাংকডাউন পর্যন্ত মহাসড়কের উভয়পাশে মালামাল বহনকারী পরিবহন লোড আনলোডের জন্য কুলি বিট ইজারা দেয়া হয়। আগে মুরগির প্রত্যেক গাড়ী থেকে ৮০ টাকা করে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে ইজারাদারের লোকজন মুরগি নামানো এবং উঠানোর সময় ‘কুলি বিট’-এর নামে মুরগী প্রতি ১ টাকা চাঁদা দাবি করে। একটা গাড়িতে কমবেশি ২ হাজার মুরগী আসে। তাতে একটি গাড়িতেই ২ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেও গাড়ি প্রতি দিতে হতো ৮০ টাকা। সেখানে এখন গাড়ি প্রতি ১,৯২০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। যা শুধু অমানবিকই নয়, অন্যায় এবং জুলুম বলে মনে করেন তারা। মুরগী ব্যবসায়ীরা কুলি বিটের নামে চাঁদাবাজী মনে করেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেরাই শ্রমিক দিয়ে মালামাল ওঠানামা করালেও চাঁদা দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে অনেক সময় গাড়ি আটকে রাখা এবং চালকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটছে। বৃহত্তর সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রায়হান সিকদার বলেন, গত কয়েকদিন আগে সাভারের পাকিজা মোড়, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, রেডিও কলোনী এবং সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকটি মুরগি বোঝাই পিকআপ ভ্যান আটকে অবৈধভাবে বাড়তি টাকা আদায় করে।
ব্যবসায়ীরা এ অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্তরা গাড়িচালক ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
সংগঠনটির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, আগে মুরগীর গাড়ি প্রতি ৮০ টাকা পার্কিং চার্জ তারা নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু আলমগীর হোসেন, শ্রাবণ মিয়া ও জুয়েল মিয়াসহ আরো কয়েকজন প্রতি পিস মুরগীর জন্য ১ টাকা হারে চাঁদা দাবি করছে, যার কোনো সরকারি বা আইনি ভিত্তি নেই।
এদিকে, ব্যবসায়ীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের স্থায়ী সমাধান না হলে এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মুরগির ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছিলেন। তারা যে অভিযোগ করেছে সে বষয়ে আমি ইজারাদারের সাথে কথা বলে তাকে আসতে বলেছি। ইজারাদার আসলে দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী বলেন, মুরগি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুই পক্ষকেই আলোচনা করে সমাধান করতে বলেছি।
এ বিষয়ে কুলি বিট ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা বলেন, পৌরসভা থেকে যখন আমরা ইজারা নিয়েছি তখন আমাদেরকে মুরগি প্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই হিসাবে আমরা টাকা নিচ্ছি। ব্যবসায়ীরা গাড়ি প্রতি যে ৮০ টাকার কথা বলছে এটা সঠিক নয়, ২০২০ সালে পৌরসভায় ত্রিপক্ষীয় এক সমঝোতার মাধ্যমে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৩৫০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কখনো ৮০ টাকা ছিল না। কিন্তু ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছে আমরা নাকি চাঁদা নিতেছি। ইউএনও সাহেবও আমাকে বলেছে, মুরগির ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টা সমাধান করার জন্য। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমার কাছে না এসে তারা থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছে।
