শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
পাকিস্তানে ডিজেল-পেট্রোলের দাম ছাড়াল ৪০০ রুপি
daily-fulki

পাকিস্তানে ডিজেল-পেট্রোলের দাম ছাড়াল ৪০০ রুপি


ফুলকি ডেস্ক : পাকিস্তানে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁয়েছে। দেশটির সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম যথাক্রমে লিটারপ্রতি ৬.৫১ রুপি ও ১৯.৩৯ রুপি বাড়ানো হয়েছে।

দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া নতুন দর ৮ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে।

নতুন হিসাবে হাইস্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ৩৯৯.৫৮ রুপি, যা আগে ছিল ৩৮০.১৯ রুপি।


অন্যদিকে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৯৯.৮৬ রুপি, যা আগে ছিল ৩৯৩.৩৫ রুপি। তবে ডিলার কমিশন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে পাম্পপর্যায়ে এই দাম কার্যত ৪০০ রুপির সীমা অতিক্রম করেছে। 
মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী ও পরিবহন খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

সরকার জানিয়েছে, আইএমএফ-এর  সঙ্গে সমন্বয় করেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।


চলতি অর্থবছরে পেট্রোলিয়াম লেভি থেকে ১.৪৬৮ ট্রিলিয়ন রুপি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।
তবে ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে সাধারণ জনগণ। কারণ এই তেল পণ্য পরিবহন খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং সরাসরি মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে।

মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী, কৃষক ও পরিবহন খাতের জন্য ভর্তুকির মেয়াদ আরো এক মাস বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


দুই চাকার যানবাহনের জন্য লিটারপ্রতি ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, যা মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত প্রযোজ্য।
এ ছাড়া পণ্যবাহী ট্রাক মাসে ৭০ হাজার রুপি, বড় পরিবহনযান ৮০ হাজার রুপি এবং আন্তনগর গণপরিবহন ১ লাখ রুপি পর্যন্ত সহায়তা পাবে। ভাড়া না বাড়াতে পরিবহন মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে নজরদারিও জোরদার করতে বলা হয়েছে।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত আর্থিক লক্ষ্য পূরণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তারা। প্রয়োজনে উন্নয়ন ব্যয় কমিয়েও প্রাথমিক বাজেট ভারসাম্য বজায় রাখা হবে।


আগামী ৮ মে আইএমএফ বোর্ড বৈঠকে ১.২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ ছাড় অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ১০ বিলিয়ন থেকে ৬৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিমাসে অতিরিক্ত তেলের আমদানি ব্যয়, প্রবাসী আয়ে পতন, রপ্তানি ব্যাহত হওয়া এবং যুদ্ধঝুঁকি প্রিমিয়াম—সব মিলিয়ে বড় ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে মূল্যস্ফীতি ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে লোডশেডিং বাড়ছে এবং শিল্প উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 

সর্বাধিক পঠিত