রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
আইন ভাঙলেই বিপদ, প্রতিদিন লাইসেন্সের পয়েন্ট হারাচ্ছেন গড়ে ১১ চালক
daily-fulki

আইন ভাঙলেই বিপদ, প্রতিদিন লাইসেন্সের পয়েন্ট হারাচ্ছেন গড়ে ১১ চালক


স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক পরিবহন আইনে চালকদের জন্য ‘ডিমেরিট পয়েন্ট’ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। প্রতি লাইসেন্সে বরাদ্দ ১২ পয়েন্ট। আইন ভাঙলেই তা কাটা হচ্ছে। সব পয়েন্ট কাটা পড়লে বাতিল হবে লাইসেন্স। সফটওয়্যার চালুর পর গত দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে পয়েন্ট হারিয়েছেন ১১ জন চালক।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ২০২৩ সালের এপ্রিলে বিআরটিএ ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটার জন্য একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যার তৈরি করছে বলে জানায়। প্রায় তিন বছর পর গত দুই মাস আগে সে সফটওয়্যারটি চালু হয়েছে। এরপর থেকে চলছে এর প্রয়োগ।


বিআরটিএ বলছে, ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে পরীক্ষামূলকভাবে পয়েন্ট কাটার কাজ শুরু হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী ব্যক্তি আইন লঙ্ঘন করলে তাকে সংশ্লিষ্ট আইনে যেমন জরিমানা করা হবে, আবার পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট ওই ব্যক্তির লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটতে পারবেন। ১৩টি ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কাটা যাবে এই পয়েন্ট।


কোনো চালক ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলেই বিপদে পড়বেন। দায়িত্বরত সার্জেন্ট কাটতে পারবেন পয়েন্ট। গত দুই মাসে প্রায় ৭শ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১১ জনের বেশি চালকের লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা হচ্ছে। এর মধ্যে কারও এক, কারও দুই পয়েন্ট করে কাটা পড়েছে। এমনটি জানায় ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ।


সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো চালক ছয় মাসের মধ্যে যদি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন না করেন, তাহলে চালকের আপিলের পর দুই পয়েন্ট ফেরত পেতে পারেন। টানা ছয় মাস কোনো নিয়ম না ভাঙলে আরও দুই পয়েন্ট পাবেন চালক। তবে কোনো চালক আট পয়েন্ট হারানোর পর দুই বছর পয়েন্টের জন্য আপিল করতে পারবেন না।


২ মাসে যে সব কারণে পয়েন্ট কাটা হয়েছে
ট্রাফিক নিয়ম ভঙ্গের মধ্যে উল্টোপথে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, অবৈধ পার্কিং ও বাম লেনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার মতো অপরাধের জন্য এসব পয়েন্ট কাটা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান

যেভাবে পয়েন্ট কাটা হচ্ছে
কোনো চালক গাড়ি চালানোর সময় ট্রাফিক আইন অমান্য করলে ট্রাফিক পুলিশ ওই গাড়ি থামাবেন। তিনি চালকের লাইসেন্স সংক্রান্ত সব তথ্য যাচাই করে দেখবেন। নতুন করা মামলার তথ্য চলে যাবে বিআরটিএর কাছে। বিআরটিএ ওই চালক কত পয়েন্ট খোয়ালেন, সে তথ্য সংরক্ষণ করবে।
এভাবে একজন চালকের ১০ পয়েন্ট কাটা গেলে বিআরটিএ থেকে চালকের কাছে একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হবে। এরপরও চালক সতর্ক না হলে মামলার কারণে ১২ পয়েন্ট হারালে তার লাইসেন্সটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। লাইসেন্স বাতিল হওয়ার তথ্যও চালকের কাছে পাঠাবে বিআরটিএ।

পয়েন্ট কাটা

এভাবে মামলা করে তথ্য পাঠানোর কাজ করবে পুলিশ। আর তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজটি করবে বিআরটিএ। এই পুরো কাজটি হবে সফটওয়্যারে মাধ্যমে। যেখানে পুলিশ ও বিআরটিএর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ থাকবে।
যে ১৩ অপরাধে কাটা পড়বে ১২ পয়েন্ট
১. ট্রাফিক সাইন ও সংকেতের বিধান লঙ্ঘন করলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

২. মোটরযানের বাণিজ্যিক ব্যবহার সংক্রান্ত ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করলে কাটা হবে ১ পয়েন্ট।

৩. গণপরিবহনে ভাড়ার চার্ট প্রদর্শন ও নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় করলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

৪. কন্ট্রাক্ট ক্যারিজের মিটার অবৈধভাবে পরিবর্তন বা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা আদায় করলে কাটা পড়বে ১ পয়েন্ট।

৫. অতিরিক্ত ওজন বহন করে মোটরযান চালানোয় কাটা যাবে ২ পয়েন্ট।

৬. মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

৭. নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনোরূপ শব্দ সৃষ্টি বা হর্ন বাজানো বা কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ন মোটরযানে স্থাপন করলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

৮. পরিবেশ দূষণকারী ও ঝুঁকিপূর্ণ মোটরযান চালানোয় কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

৯. মোটরযান পার্কিং ও যাত্রী বা পণ্য ওঠানামার নির্ধারিত স্থান ব্যবহার না করলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

১০. দ্রুতগতির মোটরযান প্রবেশের ক্ষেত্রে মহাসড়ক ব্যবহার করলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

১১. মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশনাবলি লঙ্ঘন করলে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

১২. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনে কাটা যাবে ১ পয়েন্ট।

১৩. ইচ্ছাকৃতভাবে পথ আটকে বা অন্য কোনোভাবে অন্য মোটরযানের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে কাটা যাবে ২ পয়েন্ট।

চালকদের এ দোষসূচক কর্তনযোগ্য পয়েন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য কর্তৃপক্ষের মোটরযান পরিদর্শকের সমমানের পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা সার্জেন্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পয়েন্ট কেটে মোটরযান চালক ও সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। জানানোর পর দোষসূচক পয়েন্ট কাটার বিষয়টি নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট মোটরযানের চালককে বিষয়টি জানাবে।


চালক দোষসূচক পয়েন্ট কাটা সম্পর্কে জানার ৩০ দিনের মধ্যে তা পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি পরিশোধ করে আবেদন করতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করে ৩০ দিনের মধ্যে ওই পয়েন্ট কর্তন থেকে আবেদনকারীকে অব্যাহতি বা তা বহাল রেখে আবেদন নিষ্পত্তি করবেন।

অভিযুক্ত চালক ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় অপরাধ না করলে বা দোষী সাব্যস্ত না হলে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ প্রতি ছয় মাস পরপর কর্তন করা দোষসূচক পয়েন্ট থেকে ২ পয়েন্ট করে ফেরত দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কাটা শুরু হয়েছে। কারণ আইন ভঙ্গ করলে গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চালকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এতদিন নেওয়া হয়নি।’

‘রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত দুই মাসে প্রায় ৭শ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সে পয়েন্ট কাটা হয়েছে। কোনো চালকের এক পয়েন্ট, আবার কারও ক্ষেত্রে দুই পয়েন্ট পর্যন্ত কাটা হয়েছে, যেখানে মোট পয়েন্ট সংখ্যা নির্ধারিত রয়েছে ১২।’ বলেন অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর।


তিনি বলেন, ‘বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ বড় যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো মোটরসাইকেলচালকদের ক্ষেত্রে পয়েন্ট কাটা শুরু হয়নি, ভবিষ্যতে তা চালু করা হবে।’
 

 

সর্বাধিক পঠিত