শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
শিক্ষিকাকে জুতাপেটার ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার
daily-fulki

শিক্ষিকাকে জুতাপেটার ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে একজন শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণ করায় উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ঢুকে ভাঙচুর ও একজন শিক্ষিকার সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুর উপজেলাধীন জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীর বিরুদ্ধে। দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে আকবর আলীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

জুতাপেটার ঘটনার নেপথ্যে
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শিক্ষিকাকে জুতাপেটার ঘটনাটি ঘটে। এসময় কলেজের অধ্যক্ষসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

 কেউ ঘটনাটির জন্য দায়ী করছেন ওই শিক্ষিকাকে, আবার কেউ দায়ী করছেন বিএনপি নেতাকে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ঘটনার দিন দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল।

পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। এরই মধ্যে স্থানীয় জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহাদাত আলী, পুলিশের সাবেক এসআই ও বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদসহ ৭-৮ জনের একটি দল কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় তারা স্থানীয়ভাবে ইসলামী জালসার নামে চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি আগের অধ্যক্ষের সময়ে কলেজের আয়-ব্যায়ের হিসাব চান তারা। এ নিয়ে বিএনপি নেতা ও শিক্ষকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

 

এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা প্রতিবাদ জানিয়ে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। এসময় হীরাকে বাধা দিতে যান বিএনপি নেতা শাহাদাত আলী। তখন ওই শিক্ষিকা শাহাদাতকে চড় মেরে বসেন। এরপর শাহাদাত তার পায়ের স্যান্ডেল খুলে ওই শিক্ষিকাকে পেটাতে থাকেন। এর জেরে ক্যাম্পাসে ওই শিক্ষিকাকে বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আফাজের ওপরও হামলা করেন।

এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা গিয়ে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষকের ওপর হামলা চালান। পাশাপাশি ভাঙচুর করেন কলেজের অফিস কক্ষ।  বিএনপি নেতাদের হামলায় কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরো দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।  

অভিযোগ রয়েছে— ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো চেষ্টায় করেনি। ফলে প্রকাশ্যেই ওই নারী শিক্ষককে জুতাপেটাসহ কলেজে ভাঙচুর ও হামলা করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অভিযুক্ত জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী দাবি করেন, কলেজের পূর্বের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় আলেয়া খাতুন হীরা প্রথমে আমাদের ওপর হামলা করেন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, চার মাস আগে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, ‘বিভিন্ন সময় কলেজে এসে তারা হিসাব চাইতেন, মূলত চাঁদার দাবিই ছিল তাদের। অধ্যক্ষের পাশে থেকে প্রতিবাদ করায় আমিও হামলার শিকার হয়েছি।’

দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল এবং উভয়পক্ষকে নিবৃত করার চেষ্টা করা হয়। তবে কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মুখপাত্র সাবিহা ইয়াসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশ বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আজও একদল পুলিশ পাঠানো হয়েছে ঘটনাস্থলে। গোয়েন্দা নজরদারিও রাখা হয়েছে।’

সর্বাধিক পঠিত