বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ রাত
MENU
#
সিংগাইরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১২ লক্ষ টাকা কেন্দ্র ফি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ
daily-fulki

সিংগাইরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১২ লক্ষ টাকা কেন্দ্র ফি নিয়ে নয়ছয়ের অভিযোগ

 

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি বাবদ আদায় করা প্রায় ১২ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দেখা দিয়েছে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, মিলছে না সঠিক তথ্য-উপাত্ত।

জানা গেছে, উপজেলার ৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৫৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। ফরম পূরণের সময় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫১০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৮৫ টাকা করে কেন্দ্র ফি নেওয়া হয়।

কেন্দ্র সচিবদের তথ্য অনুযায়ী, সিংগাইর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে ৯৭৭ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকা, সিংগাইর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৯৮ জনের কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ে (ভোকেশনালসহ) ৪০৮ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩৪ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং গোলাইডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩১ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। সর্বমোট আদায়কৃত অর্থ প্রায় ১২ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা এ অর্থ কক্ষ পরিদর্শক, সমন্বয়কারী, হল সুপার, কেন্দ্র সচিবসহ পরীক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যয় করার কথা। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ টাকার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব কারও কাছে নেই। বাজেট সম্পন্ন হওয়ার আগেই টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কক্ষ পরিদর্শক (শিক্ষক) অভিযোগ করে বলেন, লাখ লাখ টাকা আদায় করা হলেও পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতি পরীক্ষায় মাত্র ২০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়, যা যাতায়াত খরচেই শেষ হয়ে যায়। তাদের দাবি, দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিরা ইচ্ছেমতো টাকা খরচ করে অবশিষ্ট অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।

এ বিষয়ে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের হল সুপার ও শান্তিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, কেন্দ্র ফি’র টাকা বাজেটের বাইরে ব্যয়ের সুযোগ নেই।

সিংগাইর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, সরকারি নির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ সদস্যের পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি রয়েছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে খরচ করা হয় এবং অবশিষ্ট টাকা নিজেদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। তবে তিনি প্রস্তুতকৃত বাজেট দেখাতে অসম্মতি জানান। তিনি আরও বলেন, বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও এ অর্থের একটি অংশ পেয়ে থাকেন।

সিংগাইর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ. হান্নান বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্র ফি আদায় করা হয়। কেন্দ্র সচিবের কাছে টাকা জমা থাকে এবং ইউএনও’র সভাপতিত্বে প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে বাজেট নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সম্মানী পান এবং খরচ বাজেটের মধ্যেই সমন্বয় করা হয়।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার বলেন, কেন্দ্র খরচের কোনো বাজেট তাকে এখনো দেখানো হয়নি। তার মতে, কেন্দ্র সচিবদের কাছেই টাকা থাকে এবং কোনো ব্যাংক হিসাবে তা সংরক্ষণ করা হয় না। তিনি দ্রুত বিষয়টি খোঁজখবর নিবেন বলেও  জানান।

 

সর্বাধিক পঠিত